৬০ জনের মৃত্যু? ভুয়ো তথ্য ছড়াতেই ধুন্ধুমার! রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের

উত্তর কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা চরম আকার ধারণ করেছে। মর্মান্তিক এই ট্র্যাজেডির পর কেবল দুর্ঘটনাস্থল কিংবা প্রশাসনিক তদন্তই নয়, নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমকেও। চোরবাগান কাণ্ডে ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগে কোচবিহার জেলা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। মঙ্গলবার পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের কাছে এই গ্রেফতারির খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

মূল ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার সন্ধ্যায়। উত্তর কলকাতার চোরবাগানের এক নামী দুর্গাপুজো মণ্ডপে আচমকাই প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থীর করুণ মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও ২৫ জন, যাঁরা বর্তমানে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে পুলিশের এক আধিকারিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে বলেন, “চোরবাগান মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের আসল সংখ্যা গোপন করে সামাজিক মাধ্যমে অসত্য ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বার্তা পোস্ট ও শেয়ার করার অপরাধেই আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছি। গত সোমবার গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। উৎসবের আবহে বা যেকোনো পরিস্থিতিতে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো কোনো চেষ্টা প্রশাসন বরদাস্ত করবে না।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম আইনুল হক এবং তিনি কোচবিহারের স্থায়ী বাসিন্দা। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় অনবরত ভুয়ো দাবি করা হচ্ছিল। কিছু বিভ্রান্তিকর পোস্টে দাবি করা হয় যে চোরবাগানের ঘটনায় নাকি ৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। এই ধরণের পোস্ট জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল বলেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

অন্যদিকে, কলকাতার এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভিড়ের তাণ্ডবে বুকে তীব্র অতিরিক্ত চাপ এবং আসফেক্সিয়া (Asphyxiation) বা মারাত্মক শ্বাসরোধের কারণেই অধিকাংশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে বাইরে থেকে বুকের ওপর প্রচণ্ড বল প্রয়োগ হওয়ার ফলে তৈরি হয় ‘ট্রমাটিক আসফেক্সিয়া’ (Traumatic Asphyxia), যার ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং দ্রুত মৃত্যু ঢলে পড়ে মানুষ। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রিপোর্টটি প্রাথমিক মাত্র। পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশের পরেই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হবে।