‘৬টা ৩০-এ বিমান হাইজ্যাক হবে!’ শৌচাগারে মিলল গোপন চিঠি, মাঝআকাশ থেকেই ফিরল ইন্ডিগোর ফ্লাইট

মাঝআকাশে আচমকাই নেমে এলো চরম আতঙ্ক! বেঙ্গালুরু থেকে লখনউগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানে ছড়ালো সরাসরি বিমান হাইজ্যাকের হুমকি। ঘটনার আকস্মিকতায় টেক-অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটিকে ঘুরিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ফের বেঙ্গালুরু কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামিয়ে আনতে বাধ্য হন পাইলট। বিমানের শৌচাগার থেকে একটি হাতে লেখা হুমকির চিঠি উদ্ধার হতেই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্বাভাবিকভাবেই ১৭৮ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। খবর চাউর হতেই তড়িঘড়ি বিমানে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ ও বিমানবন্দরের বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীরা।
কী লেখা ছিল সেই চিঠিতে? বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ১৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ইন্ডিগোর 6E 451 নম্বর বিমানটি বেঙ্গালুরু থেকে লখনউয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় বিমানের শৌচাগারে একটি হাতে লেখা চিরকুট দেখতে পান বিমানকর্মীরা। সেখানে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল, ‘এই বিমানটি ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে হাইজ্যাক করা হবে।’
এমন ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা দেখার পর মুহূর্তের জন্য কালক্ষেপ করেননি কেবিন ক্রু-রা। তারা সঙ্গে সঙ্গে পাইলটকে বিষয়টি জানান। পাইলট বিলম্ব না করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে বিমানটিকে ফের বেঙ্গালুরুতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানজুড়ে তল্লাশি, যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি অবতরণের পরপরই বিমানটি থেকে ১৭৮ জন যাত্রীকে দ্রুত নামিয়ে এনে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। এরপরই বম্ব স্কোয়াড ও নিরাপত্তাকর্মীরা পুরো বিমানে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। শৌচাগারে পাওয়া ওই হুমকির চিঠিটি কে বা কারা রেখেছিল, তা খুঁজে বের করতে বিমানবন্দর পুলিশ যাত্রীদের একে একে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ ও বোর্ডিং পাস সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার জেরে ইন্ডিগো একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, বেঙ্গালুরু-লখনউগামী 6E 451 নম্বর বিমানে একটি নিরাপত্তা হুমকির বার্তা পাওয়া গিয়েছিল। সংস্থার মুখপাত্র জানান, “নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পাইলট বিমানটিকে টেক-অফ পয়েন্টে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।” আকস্মিক এই ভোগান্তির জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছে বিমান সংস্থাটি। আটকে পড়া যাত্রীদের খাবার ও পানীয় দেওয়ার পাশাপাশি বিমানের পরবর্তী আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
পরপর দু’দিনে দু’বার বিমানে হুমকি! বিমানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়; ঠিক এর আগের দিনও ইন্ডিগোর অপর একটি বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী 6E 6091 নম্বর বিমানটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার মুহূর্তেই বোমার হুমকি পায়। সেবারও শৌচাগারের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল যাত্রা না করার একটি সতর্কবার্তা সংবলিত চিঠি। যদিও তল্লাশির পর সেই হুমকি ভুয়ো প্রমাণিত হয় এবং বিমানটি নিরাপদে চেন্নাই পৌঁছায়।
তবে পরপর দুই দিনে দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলিতে এভাবে বিমানে হাইজ্যাক ও বোমাতঙ্কের চিঠি উদ্ধারের ঘটনায় দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি ও কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পরই বেঙ্গালুরুর আটকে থাকা বিমানটিকে পুনরায় লখনউয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।