মাত্র একটা দরজাই কেড়ে নিল সব! ওড়িশার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ শিশুসহ পুড়ে ছাই একই পরিবারের চারজন

ওড়িশার জাজপুর জেলার বালিচন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত নালিপুর গ্রামে শনিবার রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ নালিপুর গ্রামের নিজামউদ্দিনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাড়ির মালিক নিজামউদ্দিনের পুত্রবধূ তাবসুম (৪২), বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসা তাঁর মেয়ে গুলাপসা বিবি (২৭), দশ বছরের এক নাতনি এবং মাত্র আট মাসের এক নাতি। ঘটনার সময় বাড়িতে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রাতের খাবার রান্না করা হচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই বাড়িতে আগুন লেগে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অ্যাসবেস্টসের তৈরি ওই বাড়িটিতে ঢোকা এবং বাইরে বের হওয়ার জন্য মাত্র একটিই দরজা ছিল। ফলে রাতের বেলা রান্না করার সময় যখন হঠাৎ আগুন ধরে যায়, তখন ওই একটিমাত্র দরজা দিয়ে কেউ বাইরে বের হতে পারেননি। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের মধ্যেই বন্দি হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাস্থলেই ওই চারজন পুড়ে মারা যান।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজামউদ্দিনের পরিবারের ২২ বছরের এক যুবক গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বারাচানা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে চণ্ডিখোল ফায়ার স্টেশন এবং বালিচন্দ্রপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। চণ্ডিখোল ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার সোয়াইন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে। একটিমাত্র যাতায়াতের পথ থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা যে এত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।