৫০ কেজির বস্তা মাত্র ৮০ টাকা! হুগলিতে আলু চাষিদের রক্তজল করা পরিশ্রমে চরম ধস, ক্ষোভের মুখে কৃষিমন্ত্রী

একসময়ে হুগলির কৃষকদের আয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল আলু। অথচ সেই আলুই এখন চাষিদের কাছে কার্যত গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চড়া খরচ করে ফসল ফলিয়েও মিলছে না ন্যায্য দাম। হিমঘরে মজুত আলু বিক্রি না হওয়ায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ৫০ কেজির এক বস্তা আলুর দাম নেমে এসেছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

অথচ হিমঘর থেকে সেই আলু বের করতে গেলে শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে হচ্ছে। ফলে বিক্রির টাকা দিয়ে উৎপাদনের খরচ তো দূরঅস্ত, ঋণের বোঝা সামলানোই চাষিদের কাছে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আগামী দিনে আলু চাষ আদৌ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার চুঁচুড়ায় প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে কৃষকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল।

চাষিদের অভিযোগ, হিমঘরে প্রচুর পরিমাণ আলু মজুত থাকলেও বাজারে ক্রেতা নেই। অবিলম্বে রফতানির ব্যবস্থা না করা হলে এই আলু মাঠেই বা হিমঘরেই পচে নষ্ট হয়ে যাবে। দিগসুইয়ের কৃষক প্রশান্ত কুমার নিয়োগী ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, বারবার লোকসানের মুখে পড়ে ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। বিকল্প চাষের কথা বলা হলেও হুগলির মাটিতে ঠিক কী চাষ করলে লাভ হবে, তার কোনো স্পষ্ট দিশা নেই। অন্য চাষিদেরও একই সুর—সার, বীজ ও কীটনাশকের চড়া দাম এবং কালোবাজারির দাপটে তারা সর্বস্বান্ত।

কৃষকদের উদ্বেগের জবাবে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানান, এ বার আলুর বন্ডের দাম কম এবং অতীতে রফতানির ক্ষেত্রে নানা বাধা ছিল। তবে সরকার এই জট কাটানোর কথা ভাবছে। পাশাপাশি তিনি আলু চাষের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে বিকল্প ফসলের দিকে নজর দেওয়ার এবং রাসায়নিকের বদলে জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং পরবর্তী মরসুমে বিনামূল্যে বীজ ও ঋণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে কৃষকদের প্রশ্ন, শুধু আশ্বাসে কি চলতি মরসুমের বিপুল লোকসান সামাল দেওয়া সম্ভব? আলুর এই বাজারধস না থামলে হুগলির বহু কৃষকের জীবিকা চিরতরে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।