আমেরিকা-ইরান সংঘাত নিয়ে বিস্ফোরক ফাঁস! যুদ্ধের আবহেই কি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি হতে চলেছে?

বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির একটি গোপনীয় খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া ইংলিশ’-এর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের যৌথ পদক্ষেপে বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত চীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনার এই প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত সম্মত কোনো তৃতীয় দেশে সরিয়ে নিয়ে যাবে অথবা পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের মাত্রা একধাক্কায় কমিয়ে আনবে।
একইসঙ্গে, প্রাথমিক কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জনের মাত্র সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার খুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক সমঝোতা বাস্তবায়ন ও তার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বজায় রাখতে ড্রাগনের দেশ ‘চীন’ মূল গ্যারান্টার বা জামিনদার হিসেবে মধ্যস্থতা করবে। চুক্তি অনুযায়ী ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহাতে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে, তার বিনিময়ে তেহরানের ওপর চেপে থাকা কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করবে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, শান্তি ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক সিনিয়র উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের পাঠানো একটি গোপন চিঠি ইরানের নিরাপত্তা আধিকারিক মহসেন রেজাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে এই মধ্যস্থতাকারী দল। নতুন কোনো মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে তেহরান এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করছে। তবে পরিস্থিতি এখনও জটিল; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনা হলেও আমেরিকা কোনো তাড়াহুড়ো করবে না।