বিজেপির অন্দরে বড়সড় ভাঙন! উত্তরপ্রদেশের এমএলসি নির্বাচনে খোদ পদ্মশিবিরে ভরাডুবি কেন?

চারটি রাজ্যের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ বা এমএলসি (MLC) আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকের এই নির্বাচনে যে ফলাফল সামনে এসেছে, তা ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্বকে এক গভীর চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাইপ্রোফাইল নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের শহর লখনউ কিংবা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) শক্তঘাঁটি নাগপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলিতে বিজেপির অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় বা জয়ের ব্যবধান কমে যাওয়া প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দলের অন্দরে মারাত্মক অসন্তোষ ও অন্তর্ঘাত দানা বেঁধেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সুদীর্ঘকাল ধরে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার স্বাদ পাওয়ার ফলে বিজেপির কিছু নেতার মধ্যে অতিরিক্ত অহংকার ও ক্ষমতার মদ তৈরি হয়েছে। ফলে তাঁরা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো চলতে শুরু করেছেন। উত্তরপ্রদেশের ১১টি এমএলসি আসনের মধ্যে বিজেপি ৬টিতে জিতলেও, সমাজবাদী পার্টি (SP) তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৩ থেকে সোজা ৫টিতে নিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে লখনউ স্নাতক আসনে বিজেপির বর্তমান এমএলসি অবনীশ কুমার সিংকে হারিয়ে এসপি প্রার্থী কান্তি সিংয়ের এই ঐতিহাসিক জয় পদ্মশিবিরের অন্দরে থাকা অন্তর্ঘাতের ছবিটাই স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।

খবর অনুযায়ী, ভোটের মুখে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও রণকৌশল ঠিক করা হলেও, নেপথ্যে কিছু নেতার গোপন সমঝোতা বা ‘চিটিং’-এর ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যোগী আদিত্যনাথের সরকারের হাত ধরে জয়ের হ্যাটট্রিক করার যে স্বপ্ন দেখছে বিজেপি হাইকমান্ড, এই ফল তাদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। জনগণের আদালতে সরকারের উন্নয়নের জোয়ার থাকলেও, ঘরের শত্রুদের এই কোন্দল ও উচ্চাশা দমন করা না গেলে আসন্ন বিধানসভায় তার চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।