৪৮ ঘণ্টায় ১১টি যৌন নির্যাতন! চেন্নাইয়ে নাবালিকা খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

চেন্নাই ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানী চেন্নাই ছাড়াও আভাদি, তাম্বরম এবং তিরুভল্লুর এলাকা মিলিয়ে মোট ১১টি যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ধারাবাহিক অপরাধমূলক ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কাঞ্চিপুরম জেলার মণিমঙ্গলম এলাকায়, যেখানে এক ১০ বছরের নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে জয়ধন মণ্ডল (৩২) নামের এক যুবকের, যার আদি বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবক জয়ধন মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। রবিবার রাতে সে ওই নাবালিকাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরের কাছাকাছি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীরাই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে তাকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে মণিমঙ্গলম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্যাতিতার চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে, লাগাতার এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনায় তামিলনাড়ুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষ করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১১টি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এবং এর মধ্যে সাতটি ক্ষেত্রেই শিকার হয়েছে শিশুরা, যা রাজ্য প্রশাসনের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই অপরাধের জন্য বিরোধীরা সরাসরি থালাপতি সরকারকে দায়ী করছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঞ্চিপুরম পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার পৃথকভাবে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে নজরদারি বা টহলদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, প্রশাসনের কড়া বার্তার পরেও কেন বারবার এ ধরনের জঘন্য ঘটনা সামনে আসছে? শিশু সুরক্ষার খাতিরে এই বিষয়টিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে। রাজ্য সরকার এই ঘটনার দায়ভার নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।