৩৮ লক্ষ পরিবারের ভোটাধিকার ঝুলছে ট্রিশঙ্কু হয়ে! বিচার পাওয়ার আশায় কত যুগ অপেক্ষা করতে হবে বাংলায়?

আসন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের আগেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Special Intensive Revision – SIR) সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক মারাত্মক জটিলতা। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্যের লাখ লাখ পরিবার যখন নিজেদের ভোটাধিকার নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায়, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যে গঠিত ১৯টি বিশেষ আপিল ট্রাইব্যুনালের মধ্যে ৩টি পদই সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়ার গতি থমকে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন আমজনতা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপর্যন্ত দায়ের হওয়া মোট ৩৮.৩ লক্ষ আপিলের মধ্যে মাত্র ১ লক্ষ ২ হাজার মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট বিষয়ের ৩ শতাংশেরও কম। আবেদনকারীদের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, বর্তমানের এই ধীরগতি বজায় থাকলে সমস্ত পেন্ডিং বা জমে থাকা মামলার নিস্পত্তি ঘটাতে আনুমানিক ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে!

আসল জট কোথায়?

ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা নতুন অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে দায়ের হওয়া লক্ষ লক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ট্রাইব্যুনালগুলি গঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২২.২ লক্ষ আপিল দায়ের হয়েছে বাদ পড়া নাম পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ১৬.১ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে।

তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টের তরফে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নাম মনোনীত না করায় ওই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাইব্যুনালের প্রধানের পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। হাইকোর্ট থেকে সবুজ সংকেত পেলেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দ্রুত নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত থাকলেও বিচারক না থাকায় থমকে রয়েছে শুনানি।

এর ফলে ৩৭ লক্ষেরও বেশি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে বড়সড় সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামী দিনে তারা আদৌ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেই চিন্তাতেই প্রহর গুনছেন দুর্গত সাধারণ নাগরিকরা। অন্য দিকে, এই ঢিলেঢালা প্রশাসনিক অবস্থাকে হাতিয়ার করে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলিও।