দীওয়ালির দিনেই চমক! মুখ্যমন্ত্রী যোগীর হাত ধরে ৮২ কোটির উপহার পেলেন অবহেলিত বনটঙ্গিয়া গ্রামের মানুষ

আলোর উৎসব দীপাবলির পবিত্র প্রাক্কালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যবাসীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এক যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রবিবার দীপাবলির বিশেষ এই দিনে মুখ্যমন্ত্রী গোরক্ষপুরের সীমান্তবর্তী জঙ্গল তিকোনিয়া নম্বর তিন গ্রামের বনটঙ্গিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কোলাকুল ও উৎসব উদযাপনের জন্য সরাসরি উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তিনি স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। দীর্ঘকাল অবহেলিত এই জনজাতির জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে এ দিন ৮২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মেগা প্রকল্পের উপহার তুলে দেওয়া হয়।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ বার্তা শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লিখেছেন, “উন্নয়নের এই সত্য আলো যেন সমাজের একেবারে শেষ সারির মানুষের কাছেও নির্বিঘ্নে পৌঁছে যায় এবং প্রতিটি পরিবারের ঘর সুখ, সমৃদ্ধি ও আত্মসম্মানের প্রদীপে আলোকিত হয়—এটাই দীপাবলির প্রকৃত সার্থকতা। সেই অন্ত্যোদয় ভাবনার মূর্ত প্রতীক হিসেবেই আজ গোরক্ষপুরের জঙ্গল তিকোনিয়া গ্রামের বনটঙ্গিয়া সমাজের জন্য ৮২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে মোট ৫২টি নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণकारी প্রকল্পের সুযোগ ও সুবিধাভোগীদের মাঝে সহায়তা কিটও বিতরণ করা হবে।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী যে ৫২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ডালি সাজিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো মূলক কাজ। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রজহী চৌরাহা থেকে জঙ্গল তিকোনিয়া নম্বর তিন হয়ে সোজা পিপিড়াইচ মার্গ পর্যন্ত দীর্ঘ আধুনিক ইন্টারলকিং রাস্তা নির্মাণের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই নতুন যোগাযোগ মাধ্যমটি চালু হলে ওই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান হবে। ಒಟ್ಟು ৭৯ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ২৬টি জনকল্যাণমূলক কাজের নতুন শিলান্যাস এবং ৪ কোটি টাকারও অধিক মূল্যের ২৬টি সমাপ্ত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ, উন্নত বাজার ব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলোর আধুনিকীকরণের ওপর এই প্যাকেজে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।

বনটঙ্গিয়া পরিবারের সার্বিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে ডাবল ইঞ্জিন সরকার যে সর্বদাই আপসহীন ও বদ্ধপরিকর, তা ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে যে মানুষগুলো সমাজ ও প্রশাসনিক মূলস্রোত থেকে বহু দূরে অন্ধকারে দিন কাটাতে বাধ্য হতেন, আজ তাঁদের হাতে শিক্ষার আলো, স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা এবং উন্নত জীবনের সুযোগ তুলে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। গোরক্ষপুরের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে এবারের দীপাবলি কেবল একটি সাধারণ উৎসব নয়, বরং তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং অন্ধকার পেরিয়ে এক নতুন ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।