মাঝনদীতে ভয়াবহ কপ্টার ক্র্যাশ! মৃত্যুর মুখ থেকে বিদেশি পাইলটদের কীভাবে ছিনিয়ে আনলেন গ্রামবাসীরা?

বনের দাবানল নেভানোর সময় হঠাৎ আকাশে তৈরি হলো তীব্র অনিয়ন্ত্রণ, আর তার ঠিক পর মুহূর্তেই প্রকাণ্ড শব্দে নদীর ঘোলা জলে আছড়ে পড়ল দৈত্যাকার কপ্টার! আজ, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিট নাগাদ ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ কালিমন্তানের বারিটো নদীতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও অলৌকিক কপ্টার দুর্ঘটনা। বারিটো কুয়ালা জেলার কুরি পান ব্লকের তাবাতান গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় দাবানল (কারহুতলা) নেভানোর কাজে মোতায়েন একটি প্রাইভেট মালিকানাধীন ‘ইউরোকপ্টার ইসি২২৫এলপি সুপার পুমা’ (Airbus Helicopters H225) সরাসরি মাঝনদীতে ভেঙে পড়ে। তবে কপ্টারে থাকা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার তিন ক্রু সদস্যই অবিশ্বাস্যভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা (BNPB) এই সুপার পুমা হেলিকপ্টারটিকে জল ছিটিয়ে দাবানল নেভানোর বা ‘ওয়াটার বোম্বিং’-এর জন্য ভাড়ায় নিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বারিটো নদী থেকে বিশেষ ‘বাম্বি বালতি’ (Bambi bucket) দিয়ে জল তোলার কাজ করছিল কপ্টারটি। কিন্তু জল নেওয়ার পর কপ্টারটি ঘুরিয়ে টেক-অফ করার চেষ্টা করতেই হঠাৎ সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সোজা নদীতে আছড়ে পড়ে। এই রোমহর্ষক দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।
দুর্ঘটনার সময় কপ্টারের ভেতর ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক মাইকেল জন বেটারিজ, নিউজিল্যান্ডের হিউ অ্যান্ড্রু জন পেজ এবং ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা ইয়ায়ান। কপ্টারটি আছড়ে পড়ার দৃশ্য দেখেই কোনো কিছুর পরোয়া না করে নদীর চরে থাকা স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গ্রামবাসীদের অসীম সাহসিকতা ও তৎপরতাতেই ডুবে যাওয়া কপ্টার থেকে জলবন্দি তিনজনকে নিরাপদে টেনে বার করা সম্ভব হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানটিকে উদ্ধার করে নদীর তীরে সরিয়ে আনা হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার (BNPB) উর্ধ্বতন আধিকারিকেরা এই দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কালিমন্তানের বনে আগুন নেভাতে গিয়ে গত চার দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় কপ্টার দুর্ঘটনা। এর আগে গত ৪ নভেম্বর মধ্য কালিমন্তানের তানজুং পুটিং জাতীয় উদ্যানের কাছে বায়ুসেনার একটি Mi-17V5 কপ্টার ভেঙে পড়ে ৩ জন সেনাকর্মীর মৃত্যু হয়। ঘন ধোঁয়া ও বিপজ্জনক আকাশপথে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘিরে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।