“৩১৪ কিমি দূর থেকে পাক বিমান ধ্বংস করেছিলেন!”-রামমন্দিরের নিরাপত্তায় সেই দুর্ধর্ষ পাইলট

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রথম চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বা সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। রামমন্দিরের প্রশাসনিক, আর্থিক এবং আইনি ব্যবস্থাপনা আরও পোক্ত করতে এই নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে রামমন্দিরে ভক্তদের দাতার টাকা ও অনুদান নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে মন্দিরের কাজকর্মকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ এবং সুশৃঙ্খল করতেই ট্রাস্ট এই সিইও পদ তৈরি করেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পটভূমি
সিইও পদের জন্য শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কাছে দেশজুড়ে ৫,৫০০-রও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। জমা হওয়া সমস্ত আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার জন্য একটি তিন সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি শর্টলিস্ট করে তিন জনের একটি প্যানেল ট্রাস্টের হাতে তুলে দেয়। সেই প্যানেল থেকেই শেষ পর্যন্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
কে এই জিতেন্দ্র মিশ্র?
এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র ভারতীয় বায়ুসেনার একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং পরীক্ষিত শীর্ষ আধিকারিক। উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভাটপার রানি থানার ভোপতপুরা গ্রামের সন্তান তিনি। ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফাইটার পাইলট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে তাঁর ৩,০০০ ঘণ্টারও বেশি ফাইটার বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি ফাইটার কমব্যাট লিডার এবং এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট পাইলটের দায়িত্বও অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছেন।
তাঁর শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ডও বেশ সমৃদ্ধ। পুণের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (NDA), বেঙ্গালুরুর এয়ার ফোর্স টেস্ট পাইলটস স্কুল, আমেরিকার এয়ার কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অফ ডিফেন্স স্টুডেন্টসের প্রাক্তনী তিনি। সামরিক জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন ও শান্তিীন পদক যেমন ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল’ (SYSM), ‘অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল’ (AVSM) এবং ‘বিশিষ্ট সেবা মেডেল’ (VSM) দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুর এবং অন্যান্য দায়িত্ব
দীর্ঘ কেরিয়ারে একাধিক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন জিতেন্দ্র মিশ্র। তিনি ডেপুটি চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (অপারেশন), এয়ারক্রাফ্ট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাব্লিশমেন্টের (ASTE) কমান্ড্যান্ট, দু’টি ফ্রন্টলাইন এয়ারবেসের এয়ার অফিসার কমান্ডিং এবং ফাইটার স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। বিশেষ করে, অপারেশন সিঁদুরের সময় ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধানের দায়িত্বে থেকে তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। সেই সময় ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AEW&C) ধ্বংস করতে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা তিনি নিজেই প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
রামমন্দিরের সিইও হিসেবে তাঁর কাজ কী হবে?
নতুন সিইও হিসেবে এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের কাঁধে বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। মন্দিরের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা থেকে শুরু করে কোষাগার সামলানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দেখা এবং আইনি দিকগুলি নিখুঁতভাবে তদারকি করতে হবে তাঁকে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নতুন সিইও সরাসরি ট্রাস্টের অধীনে থেকে কাজ করবেন। মন্দির চত্বরে ভক্তদের আস্থা চিরকাল অটুট রাখা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা আনাটাই তাঁর মূল লক্ষ্য। সামরিক জীবনের সুদীর্ঘ শৃঙ্খলা, কড়া প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নিখুঁত পরিকল্পনা করার ক্ষমতা রামমন্দির ট্রাস্টের সামগ্রিক কাজকে আগামী দিনে অনেক বেশি সুসংগঠিত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।