২ অক্টোবর সিইসির বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনের ডাক! সোনম ওয়াংচুক কি পাশে থাকবেন?

আগামী ২ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। রাজধানী দিল্লি সহ সারা দেশেই এই বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই আন্দোলনকে ঘিরে বিশিষ্ট জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি সামনে এসেছে।
সিজেপি-র ডাকা এই প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর মতে, দেশে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক উন্নতির যেকোনো প্রচেষ্টাকেই সমর্থন করা উচিত। তবে এই আন্দোলনে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াংচুক জানিয়েছেন যে, কোনো আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার মূল শর্ত হলো সেটি যেন স্বনির্ভর হয়। বর্তমানে এই বিষয়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন এবং তা দেখে তিনি খুশি। তাই আশা করা যায়, সিইসি সংক্রান্ত এই ইস্যুতে তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতির প্রয়োজন পড়বে না।
নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে ওয়াংচুক বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং এর স্বচ্ছতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রক্রিয়া নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে গণতন্ত্রের আর বিশেষ কিছু অবশিষ্ট থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, সরকারকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে পূরণ করার দাবিও তোলেন এই জলবায়ু কর্মী। লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, শাসক দল বিজেপিসহ যাঁরা দেশের মানুষের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন, তিনি সবপক্ষকেই সমর্থন করেন। মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীর পবিত্র দিনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পাবে বলেই মনে করছেন ওয়াকচুক।
এদিকে, সিজেপি ঘোষণা করেছে যে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতার দাবিতে তাদের এই প্রচারণার সূচনা হবে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকেই। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলিও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কার্যপলাপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যৌথ কৌশল নির্ধারণ করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলির। সব মিলিয়ে গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যে বেশ উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।