২৬ লক্ষের বেশি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত? রাজভবন অভিযানের হুঙ্কার তুলল জমিয়ত!

এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রতিবাদে এবার সরাসরি রাজপথ এবং রাজভবন অভিযানের ডাক দিল জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এক বিশাল লোকভবন অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এসআইআর (SIR)-এর এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার দক্ষিণ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ। সেই বিক্ষোভ মঞ্চ থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে অথচ রাজ্য সরকার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আমাদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির সমর্থনে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মাননীয় রাজ্যপালের কাছে আমরা অফিশিয়াল ডেপুটেশন জমা দেব। পাশাপাশি, দেশের প্রধান বিচারপতি এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিরও এই গুরুতর বিষয়ে অবিলম্বে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে কোনো সাধারণ নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই বর্ষার মধ্যেই তাঁরা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ সম্পন্ন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাঁরা কোথাও কোনো সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। ট্রাইব্যুনালগুলিতে কোনো শুনানি হচ্ছে না, যার ফলে জেলার পর জেলা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন না তাঁরা আসলে কী করবেন। প্রশাসনের এই উদাসীনতার বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে যে, প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়া, মিসম্যাচ বা নাম ডিলিট—প্রতিটি বিষয়ে জেলাশাসক এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পরিষ্কার তথ্য দিতে হবে। যারা এই প্রক্রিয়ায় অহেতুক হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি জেলায় অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিও তোলেন তিনি।
শেষে সিদ্দিকুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না মানা হয়, তবে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায় গণঅবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। শুধু কলকাতায় সাড়ে ছয় লক্ষ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ৪ লক্ষ ৫২ হাজার বিচারাধীন ভোটারের ভাগ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার কোনো সদুত্তর দেয়নি। আমরা ঘেরাওয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাসী না হলেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্ত রকমের কড়া আন্দোলন চালাতে প্রস্তুত রয়েছি।