২৫ ব্যাগ নিয়ে বিদেশ পালাচ্ছেন! মিডিয়া ট্রায়ালের বিরুদ্ধে সোজা হাইকোর্টে কড়া পদক্ষেপ অভিষেকের

সমস্ত রকম মিডিয়া ট্রায়াল এবং অপ্রাসঙ্গিক মনগড়া খবর পরিবেশন অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা-পন্থী তৃণমূল শিবিরের প্রভাবশালী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলা শোনার এক্তিয়ার নেই বলে মামলাটি ছেড়ে দিলেও, শুক্রবার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল আবেদন নিয়ে সরাসরি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিষেকের আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাই-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই এই হাই-প্রোফাইল মামলা শুনানির জন্য একটি উপযুক্ত বেঞ্চ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে অভিষেক পত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় একই রকম আইনি আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল যে, যে কোনও খবরের সূত্রে অকারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমে কুৎসিত প্রচার চালানো যাবে না। এবার ঠিক একই পথে হেঁটে নিজের নাম ও সম্মানহানি করার মতো অপ্রাসঙ্গিক খবর এবং ভিত্তিহীন রিপোর্টিং বন্ধ করার আইনি দাবি জানিয়েছেন খোদ তৃণমূল সাংসদ। এই মামলায় তিনি জাতীয় এবং আঞ্চলিক স্তরের একাধিক শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া হাউজকে পক্ষ হিসেবে যুক্ত করেছেন।

আদালতে পেশ করা অভিযোগে অভিষেক উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি স্পষ্ট নির্দেশের পর তদন্তাধীন বিষয়ে রিপোর্টিং করার ব্যাপারে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রেস গাইডলাইন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের একাংশ সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর খবর পরিবেশন করে চলেছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেছেন, গত জুন মাসে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিধায়কদের সই জাল করার একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ ঘিরে তাঁকে ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই ঘটনার দিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনি কী উত্তর দিয়েছেন, তা নিয়ে লাগাতার অবাস্তব ও বানোয়াট খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর বিদেশ যাত্রার প্রাক্কালে তাঁকে নিয়ে চরম অবমাননাকর অপপ্রচার চালানো হয়। সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে তিনি ২৫টি ব্যাগ নিয়ে বিদেশ পালাচ্ছেন। এমনকি বিদেশে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে সম্পূর্ণ রসালো ও ভিত্তিহীন রোমান্টিক সম্পর্কের গল্প ফেঁদে কাল্পনিক খবর পরিবেশন করা হয়েছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমের এই লাগামহীন ট্রায়াল ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েই এবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই শীর্ষ নেতা।