“ওটাই ছিল আমার গর্বের মুহূর্ত!” কার্গিল থেকে দুবাই—দেশের বীরদের ক্যানভাসে অমর করে তুলতে গিয়ে কেন কেঁদে ফেললেন জয়পুরের এই শিল্পী?

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনা বর্তমানে গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। মাঝআকাশে ওমানের এক কো-পাইলট প্লেনটি ছিনতাই করার এক ভয়ংকর ও রক্তক্ষয়ী চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত সাহসিকতা ও চতুরতার সঙ্গে সেই প্রাণঘাতী চক্রান্ত চিরতরে ব্যর্থ করে দেন ভারতীয় বিমানের ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত গুরুতরভাবে আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। দেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থ জীবন কামনা করছেন। এই বীর পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে এবার জয়পুরের এক প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী চন্দ্র প্রকাশ গুপ্ত নিজের হাতে তুলি তুলে নিয়েছেন এবং ওয়াটার কালারে ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যাপ্টেন স্মিতের একটি জীবন্ত প্রতিকৃতি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জয়পুরের এই বিশিষ্ট জলরঙ শিল্পী তাঁর এই অনন্য শিল্পকর্ম সকলের সামনে তুলে ধরেন। জলরঙের নিপুণ ও নিখুঁত ব্যবহারে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের মুখের দীপ্তি, অদম্য সাহস ও বীরত্বের অভিব্যক্তি ক্যানভাসে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সত্যিই এককথায় অসামান্য। ছবিটি এতটাই জীবন্ত যে তা দেখে যে কারও বুক গর্বে ফুলে উঠবে। শিল্পী চন্দ্র প্রকাশ গুপ্ত জানান, ফ্লাইদুবাইয়ের প্লেনে ঘটে যাওয়া ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা যখন তিনি জানতে পারেন, তখন একজন ভারতীয় হিসেবে তাঁর বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। একজন সৃজনশীল শিল্পী হিসেবে নিজের দেশপ্রেম ও অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে ক্যানভাসে ব্রাশ টেনে দেন এবং ক্যাপ্টেন স্মিতের এই ঐতিহাসিক প্রতিকৃতিটি এঁকে ফেলেন।

উল্লেখ্য, দেশের বীর সেনাদের সম্মান জানানোর এই মহৎ উদ্যোগ শিল্পীর কাছে নতুন কিছু নয়। বিগত ৪৫ বছর ধরে তিনি ছবি আঁকার দুনিয়ায় সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী কার্গিল যুদ্ধ চলছে, সেই সংকটজনক সময়ে দেশের তরুণ জওয়ানদের আত্মবলিদান ও বীরগাথা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই থেকেই তিনি প্রথম শহিদ সেনাদের ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন। শুধু ছবি এঁকিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি নিজে সেই সমস্ত প্রতিকৃতি নিয়ে শহিদদের পৈতৃক গ্রামে গেছেন এবং সসম্মানে তা বীর জওয়ানদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের এই সাধনার যাত্রায় তিনি ৪০০-রও বেশি শহিদ সেনার হৃদয়স্পর্শী প্রতিকৃতি এঁকেছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ও দেশপ্রেমিক অবদানের জন্য তিনি জাতীয় ও রাজ্যস্তরে বহু prestigieus পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০০0 সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কে. আর. নারায়ণনের হাত থেকে সম্মান পাওয়ার পাশাপাশি ২০০১ সালে রাজস্থান সরকার তাঁকে রাজ্য পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া ‘রাজস্থান বুকস অফ রেকর্ডস’ তাঁকে ‘রাজস্থান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে। শিল্পী গুপ্তর একান্ত ইচ্ছা, সুযোগ পেলে তিনি তাঁর আঁকা এই বিশেষ ছবিটি স্বয়ং ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের হাতে ব্যক্তিগতভাবে তুলে দেবেন।