২৪ বছর পর চরম শিক্ষা! প্রেমিকার বাড়িতে যুবককে নৃশংস খুন, মালদা আদালতে ইতিহাস গড়া রায়!

দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে চলা এক চর্চিত ও রোমহর্ষক প্রেমঘটিত হত্যা মামলায় অবশেষে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করল আদালত। ভালোবাসার অপরাধে ১৮ বছরের এক যুবককে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে খুনের দায়ে ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মালদা জেলা আদালতের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক সঙ্গীতা দত্ত এই কড়া সাজা শোনান। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা রয়েছেন। এছাড়া, প্রত্যেক দোষীকে মৃত যুবকের মাকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০০২ সালের ১৪ জানুয়ারি। মালদার বৈষ্ণবনগরের লালাপাড়ার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী মলয় লালার সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তরুণীর পরিবার। অভিযোগ, সেই আক্রোশ থেকেই ১৪ জানুয়ারি রাতে মলয়কে নিজেদের বাড়িতে ডেকে পাঠায় তরুণীর বাড়ির লোক। রাত ৯টা নাগাদ তরুণীর বাড়ি থেকে তীব্র চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ পেয়ে ছুটে যান মলয়ের জ্যাঠামশাই শ্রীপতি লালা। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মলয়কে ধরে রাখা হয়েছে। তিনি প্রতিবাদ করলে তাঁকে তোয়াক্কা না করে মলয়কে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে সেই ঘর থেকেই মলয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কিন্তু দেহের অবস্থান দেখে শুরু থেকেই খুনের সন্দেহ জোরদার হয়। মৃতদেহের পা দুটি ভাঁজ হয়ে মাটিতেই ঠেকে ছিল, যা আত্মহত্যার তত্ত্বকে নাকচ করে দেয়। ১৫ জানুয়ারি বৈষ্ণবনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শ্রীপতি লালা। তদন্তে নেমে পুলিশ বুঝতে পারে, শ্বাসরোধ করে খুনের পর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালাতে দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি আইনজীবী সুদীপ সিকদার ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর নীলাঞ্জন সরকার জানান, মোট ১৩ জন সাক্ষীর বয়ান ও পেশ করা প্রমাণাদির ওপর ভিত্তি করেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর এই বিচার পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মলয়ের মা। তবে সাজা ঘোষণার পর বেরোনোর সময় দোষীদের দাবি, মলয় আত্মহত্যাই করেছিল এবং তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।