২০ টাকার সাড়ে ৩ কোটি কয়েন বাজারে? পুলিশের জালে দেশের সবচেয়ে বড় জাল নোট-কয়েন চক্র

বাহিরে স্ক্রু ড্রাইভার তৈরির কারখানা, কিন্তু ভেতরে চলত নকল কয়েনের রমরমা ব্যবসা! দেশের ৬টি রাজ্য জুড়ে জাল কয়েন ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিরাট আন্তর্জাতিক মানের জালিয়াতি চক্রকে ফাঁস করল পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের দাবি শুনে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ আধিকারিকদেরও— চক্রটি নাকি ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ কোটি টাকার জাল কয়েন দেশের বাজারে ছেড়ে দিয়েছে!

হিসেব অনুযায়ী, ৭০ কোটি টাকার এই পরিমাণ পূরণ করতে অন্তত সাড়ে ৩ কোটি ২০ টাকার জাল কয়েন তৈরি করতে হয়। যদিও ধৃতদের দাবি করা এই বিপুল অঙ্কের কথা পুলিশ এখনও সম্পূর্ণ যাচাই করে দেখতে পারেনি, তবে এই চক্রের বিস্তার যে কতটা মারাত্মক ছিল, তা ভেবেই উদ্বিগ্ন তদন্তকারীরা। হরিয়ানা, দিল্লি, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড— এই ৬টি রাজ্যে জাল কয়েনের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল এই গ্যাং।

স্ক্রু ড্রাইভার তৈরির আড়ালে কয়েন ঢালাই: তদন্তে জানা গিয়েছে, হরিয়ানার সোনিপতে প্রায় ১০ মাস ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে একটি কারখানা চালাচ্ছিল এই দলটি। কারখানাটির বাইরে থেকে দেখে মনে হত সেখানে কেবল স্ক্রু ড্রাইভার তৈরি হয়। কিন্তু কারখানা প্রাঙ্গণের ভেতরেই বসানো হয়েছিল আধুনিক ধাতু ঢালাইয়ের মেশিন, যেখানে তৈরি হত অবিকল ২০ টাকার নকল কয়েন।

পুলিশের দাবি, চক্রটি কেবল সোনিপত নয়, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টুকরো টুকরো ইউনিট বা যন্ত্র বসিয়ে রেখেছিল। কোথাও পুলিশি অভিযানের সামান্যতম আশঙ্কা তৈরি হলেই তড়িঘড়ি নিজেদের ডেরা ও কারখানা বদলে ফেলত তারা।

বিপুল পরিমাণ এই জাল কয়েন দেশের অর্থনীতিতে কতটা বড় প্রভাব ফেলেছে এবং এই জালিয়াতির সঙ্গে আরও কতজন জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।