১২ দিন পর জালে আটকাবে বক্সার বাঘিনী? ড্রোন নজরদারির পর বিশাল ঘেরাও অভিযানে রাজ্য ও অসম বনদফতর

অসম ও পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরের টানা আবেদন ও দৌড়ঝাঁপের পর অবশেষে মিলল বড় সাফল্য। সীমান্ত পেরিয়ে অসমে আশ্রয় নেওয়া বক্সার সেই নিখোঁজ বাঘিনীকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে খাঁচাবন্দি করার অনুমতি দিল ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA)। সোমবার অনুমতিপত্র হাতে পৌঁছতেই রাইমোনা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে বাঘিনীটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করার প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করে দেওয়া হয়েছে।
এই মেগা উদ্ধার অভিযানের সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল। তাঁর সঙ্গে অভিযানের মূল দলে রয়েছেন এনটিসিএ এবং ‘ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’-র অভিজ্ঞ বাঘ বিশেষজ্ঞরা। অনুমতির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোমবার বিকেলে রাইমোনা টাইগার রিজার্ভে গিয়ে পৌঁছান রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওঁ।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে একটি বাঘিনী এনে বক্সার গভীর জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য গলায় রেডিও কলার ও জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বসানো হয়। সেই প্রযুক্তির সাহায্যে নজর রাখতে গিয়েই ধরা পড়ে যে, বাঘিনীটি রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে অসমের দিকে চলে গিয়েছে। টানা ১২ দিন ধরে সেটি অসমের রাইমোনা টাইগার রিজার্ভ এলাকাতেই ঘোরাফেরা করছিল।
মাঝে বাঘিনীটি জঙ্গল ছেড়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে নারায়ণপুর লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। বর্তমানে সেটি নারায়ণপুর থেকে আরও ২৩ কিলোমিটার দূরে ‘দোতনা’ নামক একটি গ্রামের প্রাকৃতিক বাঁশবাগানে অবস্থান করছে। থার্মাল ড্রোন উড়িয়ে বাঘিনীটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করেছেন বনকর্মীরা।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ঘুমপাড়ানি গুলি ছোঁড়ার সময় বাঘিনীটি যাতে কোনওভাবে পালিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য পেল্লায় মাপের বিশেষ জাল দিয়ে গোটা দোতনার ওই বাঁশবাগান এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে।
রাইমোনা থেকে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওঁ জানান, “এনটিসিএ-র অনুমতি পাওয়ার পরেই আমরা দ্রুত অসমে চলে আসি। তবে সোমবার আলো কমে সন্ধ্যা নেমে যাওয়ায় বাঘিনীটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরোদমে ট্রাঙ্কুলাইজের চূড়ান্ত অভিযান শুরু করা হয়েছে।”
বাঘিনীটিকে সুস্থভাবে উদ্ধার করে পুনরায় নিজের চেনা ডেরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে দুই রাজ্যের বনদফতর ও বন্যপ্রাণপ্রেমীদের।