২০২৯ লোকসভা ভোটে বুথ সংখ্যায় বিশাল লাফ! ৪৮৬ কোটি টাকা খরচে কত বদলাচ্ছে ইভিএম?

২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই বিশাল পরিকল্পনা ছকতে শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সম্প্রতি একটি তথ্য অধিকার আইন বা আরটিআই (RTI) আবেদনের জবাবে কমিশন যে খতিয়ান পেশ করেছে, তা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে দেশে পোলিং স্টেশন বা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা এক ধাক্কায় অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেতে চলেছে।

বুথ সংখ্যায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা: নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে ব্যবহৃত পোলিং স্টেশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০.৫২ লক্ষ। তবে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে আনুমানিক ১৫.৩৮ লক্ষে। অর্থাৎ, বুথ সংখ্যা এক লাফে প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে চলেছে, যা ভারতীয় নির্বাচন পরিচালন পরিকাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তন এনে দেবে।

ইভিএম ও ভিভিপ্যাট কিনতে মেগা বাজেট: ভোটকেন্দ্র বাড়ার সাথে সাথে ব্যালট ইউনিট (BU), কন্ট্রোল ইউনিট (CU) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে বড় মাপের অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।

  • আরটিআই তথ্য অনুযায়ী, নতুন ইভিএম ও ভিভিপ্যাট কেনাকাটা এবং মেটানোর কাজে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা খরচের প্রাথমিক অনুমান করা হয়েছে।

  • বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের ভাণ্ডারে ৩০.৪৮ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ২১.৯২ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট মজুত রয়েছে। যেখানে ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময় তাদের কাছে ছিল ১৪.৮৮ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ১১.৩০ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট।

নতুন মেশিন কেনা নাকি পুরনোগুলির স্থলাভিষেক? ভোটের পরিকাঠামো কেবল বাড়ানোই কমিশনের মূল লক্ষ্য নয়, বরং মেশিনের স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। কমিশন সূত্রে খবর, ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই ৩.৫৭ লক্ষ নতুন ব্যালট ইউনিট এবং ১.২৫ লক্ষ নতুন কন্ট্রোল ইউনিট কেনা হবে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ঠিক যত সংখ্যক নতুন ইভিএম কেনা হচ্ছে, সমসংখ্যক মেয়াদোত্তীর্ণ ও পুরনো ইভিএম মেশিনকে কমিশন অবসরে (‘রিটায়ার’) পাঠাবে।

স্পষ্টতই, কমিশনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ভোটযন্ত্রের আধুনিকীকরণ করা এবং পুরনো প্রযুক্তির ইভিএম বদলে নতুন ও নিখুঁত মেশিন নিয়ে আসা। ২০২৯ সালের মেগা নির্বাচনকে শতভাগ নিখুঁত ও নির্বিঘ্ন করতেই এখন থেকে এমন দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান সাজাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।