১ মিনিটে ২৮ হাজার ফুট পতন! মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইর ককপিটে হাড়হিম করা ষড়যন্ত্র

গাজায় ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে ইজরায়েলগামী যাত্রী বোঝাই একটি বিমান ধ্বংস করার এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ছক কষেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) কো-পাইলট। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘মাকো’-র চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলি তদন্তকারীদের জেরায় নিজের এই ভয়ংকর পরিকল্পনার কথা নিঃসংকোচে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হামাম আল-হাম্মামি। বর্তমানে ইজরায়েলের তদন্তকারী দল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে গিয়ে তাঁকে লাগাতার জেরা করছেন। জেরায় অভিযুক্ত কো-পাইলট স্পষ্ট জানিয়েছেন, “গাজার ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই আমি এই কাণ্ড ঘটাতে চেয়েছিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল শহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করা।”
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটে ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই ছিলেন ইজরায়েলি নাগরিক। বিমানটি যখন গন্তব্যে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার এক ঘণ্টারও কম সময় আগে কো-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি হঠাৎই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আক্রমণ করে বসেন। ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক আক্রমণের ঠিক পরপরই বিমানটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিমানটি এক মিনিটে প্রায় ২৮ হাজার ফুট পর্যন্ত নিচে নামতে বাধ্য হয়েছিল, যা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করে।
তবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার সব বাধা প্রতিহত করে ককপিটের দরজা খুলে ফেলতে সক্ষম হন। এর ফলে ফ্লাইটে থাকা যাত্রীরা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসেন এবং আল-হাম্মামিকে কাবু করতে সাহায্য করেন। একই সঙ্গে ককপিটের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা দ্রুত বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন, যার ফলে একটি ভয়াবহ ও নিশ্চিত বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
তদন্তে নেমে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই নাশকতার ছক কষেছিলেন। তিনি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভবন কিংবা অন্য কোনো বিমানের ওপর বিমানটি সজোরে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই তিনি এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে জেরায় স্বীকার করেছেন। তিনি জেনেশুনেই এমন একটি বিমান সংস্থাকে বেছে নিয়েছিলেন যা নিয়মিত তেল আবিবে ফ্লাইট পরিচালনা করে। হাম্মামি আরও জানান যে, তাঁর প্রাথমিক পরিকল্পনা জুলাই মাসে হামলা চালানোর ছিল, কিন্তু এক ক্রু সদস্যের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠায় তিনি পরিকল্পনা কিছুটা বদলান। ইজরায়েলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনাও তাঁর মাথায় ছিল।