১৯ বছর পর হঠাৎ ঘুম ভাঙল পুলিশের? হাইকোর্টের এক প্রশ্নেই শোরগোল নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে!

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখেই রাজনীতি ও আইনি লড়াই চরমে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার ও নতুন করে ‘শো অ্যারেস্ট’ দেখানো নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ১৯ বছর আগের মামলায় নির্বাচনের ঠিক মুখে পুলিশি তৎপরতা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে কড়া জবাব চেয়েছেন মহামান্য আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি হয়। শুনানিকালীন বিচারপতি মন্তব্য করেন, “২০০৭ সালের অভিযোগ, আর ১৯ বছর পর তদন্তকারী অফিসার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে পদক্ষেপ করছেন! বিষয়টা সত্যিই বিস্ময়কর।” একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ওই মামলায় কোনও ধরনের জবরদস্তিমূলক বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। এই নির্দিষ্ট মামলায় তাঁকে গ্রেফতার হিসেবেও গণ্য করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপথ্যে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী ৪ অক্টোবর শেষ হবে নির্বাচনী প্রচার এবং ৯ অক্টোবর ফলাফল ঘোষণা। এর ঠিক আগেই ২০০৭ সালের ভূমি আন্দোলন সংক্রান্ত একাধিক পুরনো মামলা টেনে এনে মিলন প্রধানকে পুলিশ গ্রেফতার করায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করে।
কংগ্রেস নেতৃত্বের সরাসরি অভিযোগ, মিলন প্রধান উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পুরনো মামলাগুলি সামনে এনেছে পুলিশ। যদিও রাজ্য সরকারের আইনজীবীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নন-বেইলেবল ওয়ারেন্ট মুলতুবি ছিল, তাই আইনি পথ মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতে আগের শুনানি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে মিলন প্রধান পাঁচটি পুরনো মামলায় পুলিশি পদক্ষেপ থেকে আইনি সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, ওই মামলাগুলিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এর পরপরই ফের একটি ১৯ বছর আগের পুরনো পুরনো মামলায় তাঁকে ‘শো অ্যারেস্ট’ দেখানোর আর্জি জানায় পুলিশ।
আদালতে কংগ্রেস প্রার্থীর প্রবীণ আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর এবং প্রচারের চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রার্থীকে জেলবন্দি রাখার চক্রান্ত চলছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুরো প্রক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রার্থীর পক্ষে অন্তর্বর্তী সুরক্ষার মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দেন এবং নিরপেক্ষতার বার্তা দেন।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে সাময়িক বড় স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান ও তাঁর সমর্থকেরা। তবে জেলে থাকা অবস্থায় আইনি জটিলতা কাটিয়ে তিনি শেষ মুহূর্তে ভোটের ময়দানে সরাসরি নামতে পারবেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।