“১৯ জনের মৃত্যুর দায় কার?”-প্যান্ডেলের বাইরে কোন ভুলে ঘটেছিল বিপর্যয়, মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর এবার সরাসরি স্বজনহারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২০ এবং ২১ অক্টোবর নিজেই মৃতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেবেন তিনি। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কার গাফিলতি ছিল এবং ঠিক কোথায় ত্রুটি ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি।
কোথায় ঘটেছিল প্রকৃত দুর্ঘটনা?
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মণ্ডপের ভেতরে কোনো পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেনি। প্রথমে অন্ধকারের মধ্যে যা শোনা গিয়েছিল, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সেই ধারণা বদল হয়েছে। অন্দরে দুর্ঘটনা ঘটলে মৃতের সংখ্যা আরও কত বাড়ত, তা কল্পনাতীত।
মূলত এন্ট্রি ও এক্সিট (প্রবেশ ও প্রস্থান) পয়েন্টেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির কারণে সেখানে সরু দড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তব্যরত অস্থায়ী হোমগার্ডরা নিজেদের বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে সেই দড়ি ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, প্যান্ডেলের থিমেও কিছু ত্রুটি ছিল এবং আয়োজকদেরও দায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এক নজরে মুখ্যমন্ত্রীর নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি:
বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে যাঁদের বাড়ি, গাড়ি নিয়ে ২০ ও ২১ তারিখ দুপুর পর্যন্ত যতগুলি সম্ভব পরিবারে শোকবার্তা জানাতে যাবেন তিনি। দূরে বাড়ি হলে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। পুজোয় দর্শনার্থীদের সমস্যা না করে এবং কনভয়ের জন্য ট্রাফিক বন্ধ না রেখেই এই কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।
কোনো ভিআইপি লাইন নয়: প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলায় জেলায় ওসি ও আইসি-দের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে যা প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরবে। অন-স্পট লোকাল ওসি রেখে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো আলাদা ভিআইপি পাসের লাইন রাখা যাবে না।
নিজে মনিটরিং করবেন মুখ্যমন্ত্রী: রাজনীতি ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে সহানুভূতির সঙ্গে পরিস্থিতি দেখার কথা বলে তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে তিনি নিজে ভবানী ভবন ও লালবাজারে থেকে সরাসরি পুরো পরিস্থিতি মনিটরিং করবেন।
হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: অস্থায়ী হোমগার্ডদের একাংশের বিরুদ্ধে অনীহা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাদের নামের তালিকা তলব করা হয়েছে।
তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠার পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এই পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে যে সিট (SIT) গঠন করা হবে, সেখান থেকে পুরসভা, কলকাতা পুলিশ এবং দমকল বিভাগকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা হবে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বর্তমানে কর্মরত কোনো বিচারপতি।
সামনের ২৬ অক্টোবর কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আড়ম্বর ছাড়াই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চোরবাগানে নিহত ১৯ জনকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সেই মঞ্চ থেকেই আহতদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে তুলে দেওয়া হবে। এ বছরের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে বসে কঠোর সতর্কতা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।