১৭ জন মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ! চৈতন্যনন্দের হয়ে হুমকি দেওয়া সেই সহকারীকে কেন গ্রেফতার করল পুলিশ?

দিল্লির অভিজাত এলাকা বসন্ত কুঞ্জের একটি বেসরকারি ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও আশ্রমের সর্বেসর্বা, স্বঘোষিত ‘গডম্যান’ স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর যৌন হেনস্থার মামলায় এবার তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহকারীকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হেনস্থার শিকার এক তরুণীর বাবাকে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
ধৃত ব্যক্তির নাম হরি সিং কোপকতি (৩৮)। তিনি উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলার বাসিন্দা।
হুমকি ফোন ও পুলিশের পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরি সিং কোপকতি ওই তরুণীর বাবাকে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দেন। তরুণীর পরিবার এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ হরি সিংকে গ্রেফতার করে।
জেরায় স্বীকারোক্তি: পুলিশের দাবি, জেরায় হরি সিং স্বীকার করেছেন যে তিনি এক বছর ধরে চৈতন্যনন্দকে চিনতেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁর আরও দাবি, স্বামী চৈতন্যনন্দই তাঁকে অভিযোগকারিণী এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার নির্দেশ দিতেন।
বাজেয়াপ্ত মোবাইল: প্রমাণ হিসেবে ধৃতের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যদিও হরি সিং জিজ্ঞাসাবাদের পরে জামিন পেয়েছেন, তবে তদন্তের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হয়ে গিয়েছে।
প্রায় ৫০ দিন পর গ্রেফতার ‘বাবা’ চৈতন্যনন্দ
অন্যদিকে, প্রায় ৫০ দিন ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে রবিবার আগ্রা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতী।
গুরুতর অভিযোগ: দিল্লির শ্রী সারদা ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-এর ডিরেক্টর পদে আসীন এই ‘বাবা’-এর বিরুদ্ধে অন্তত ১৭ জন মহিলাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে—ছাত্রীদের অশালীন মেসেজ করা, রাতবিরেতে নিজের ঘরে ডেকে পাঠানো, জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করা এবং বিনা খরচে বিদেশ ভ্রমণের লোভ দেখানো।
তদন্ত: গত ৪ আগস্ট ভারতীয় বায়ু সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের ওই প্রতিষ্ঠানে একটি অভিযোগ এসেছিল। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি ছদ্মবেশে ঘুরছিলেন এবং ধরা পড়ার ভয়ে মোবাইল বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও ব্যবহার করছিলেন না বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেফতারের পর পুলিশ চৈতন্যনন্দকে বসন্ত কুঞ্জের ওই আশ্রমে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নিমাণ করেছে।