১৫ ডলারে তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করতে খরচ ৩৩ কোটি! মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়ংকর সমীকরণ দেখে শিউরে উঠবেন

আধুনিক যুদ্ধবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় এবং নির্মম विरोधाभास এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ দখল করে আছে। যেখানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার খরচে তৈরি একটি সাধারণ প্লাস্টিক ও ফাইবার গ্লাস ড্রোনকে আকাশে ধ্বংস করতে ডিফেন্স সিস্টেমকে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল মিসাইল দাগতে হচ্ছে। যদি কোনো কারণে সেই মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তবে সোজা আঘাত হানবে কোটি কোটি ডলার মূল্যের তেল শোধনাগারের ওপর। আর যদি সফলভাবে ড্রোনটিকে গুঁড়িয়েও দেয়, তবুও আর্থিক ক্ষতি সহ্য করতে হবে সেই দেশকেই যে এই আকাশছোঁয়া দামের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলটি ছুড়েছে।

বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম সামরিক বাজেট এবং মার্কিন প্রযুক্তির সর্বাধুনিক এফ-১৫ ফাইটার জেট ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল শিল্ডে পুরোপুরি সজ্জিত থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব আজ এক চরম কৌশলগত সংকটে জর্জরিত। একদিকে ইয়েমেনের পাহাড়ি উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা হুথি বিদ্রোহীরা, যাদের কোনো প্রচলিত বিমান বাহিনী বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নেই, কিন্তু রয়েছে ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং সামুদ্রিক ড্রোন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তার জন্য হাত বাড়ালেই হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে আসছে এক বিপজ্জনক শর্ত—সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া।

আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট’-এর প্রবীণ বিশেষজ্ঞ ত্রেতা পারসি বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সৌদি আরব বর্তমানে এমন এক ঘূর্ণাবর্তে আটকা পড়েছে যেখানে প্রতিটি বিকল্পই চরম বিপদজনক। যদি যুবরাজ সালমান মার্কিন বিমানগুলিকে নিজের আকাশ ব্যবহারের অনুমতি দেন, তবে তেহরান এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সরাসরি রিয়াদ এবং আরামকো (Aramco)-র তেল ক্ষেত্রগুলোতে তাদের মারণ মিসাইল ছুড়ে দেব। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইয়েমেনের এই হুথি বিদ্রোহীরা বর্তমানে এতটাই বেপরোয়া যে তারা তেহরানের পরামর্শ বা নির্দেশকেও বারবার উপেক্ষা করে নিজেদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

সৌদি আরব যতই অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হোক না কেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সস্তা ড্রোনের মোকাবিলায় কোটি কোটি টাকার মিসাইল ছুড়ে নিজেদের অর্থনীতিকে বেশিদিন টানটান রাখতে পারবে না। হুথিরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মোবাইল লঞ্চার ও গেরিলা কৌশলের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো আধুনিক ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে কোণঠাসা করে রাখা সম্ভব। যতক্ষণ না মূল সাপ্লাই লাইন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান আসছে, ততক্ষণ কেবল আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করে মধ্যপ্রাচ্যের এই বারুদের স্তূপ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।