“আটক করলেই সারা দেশ যন্তর মন্তর হবে!” দিল্লি পৌঁছানোর আগেই মোদী-শাহকে চরম হুঙ্কার সিজেপি প্রধানের

ব্যক্তিগত গভীর শোকের মাঝেই আন্দোলনের ময়দানে ফেরার বিরাট ঘোষণা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। প্রয়াত ঠাকুমা সাবিত্রীবাঈ দীপকের অস্থি বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ হতেই বুধবার তিনি ফের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছাচ্ছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে নিজেদের আন্দোলনকে আরও তীব্র করার স্পষ্ট হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি প্রধান সরাসরি জানান, দিল্লি যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁকে যেখানেই আটকাক না কেন, ঠিক সেখান থেকেই তিনি ধর্ণা ও প্রতিবাদ শুরু করে দেবেন।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ও পুলিশের পদক্ষেপ
সম্প্রতি এক নির্দেশিকায় দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার যন্তর মন্তর রোডকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল ঘোষণা করেছেন। বদলে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ড—এই তিনটি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে মঙ্গলবার সকালে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কড়া ব্যারিকেড এড়িয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের আটক করে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরব হন অভিজিৎ দীপকে।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ
সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা করে দীপকে বলেন:
একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ: সরকারের মূল সমস্যা আন্দোলনের জায়গা নিয়ে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়েই মূল আপত্তি। এটি স্পষ্টত একনায়কতন্ত্রের লক্ষণ।
পুরো দেশই হবে যন্তর মন্তর: আন্দোলন থামানোর জন্য যন্তর মন্তরকে নিষিদ্ধ করার কৌশল সফল হবে না। যন্তর মন্তর আসলে কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থান নয়, এটি প্রতিটি প্রতিবাদী মানুষের চেতনার প্রতীক। যন্তর মন্তর বন্ধ করলে দিল্লি সহ গোটা দেশই যন্তর মন্তরে পরিণত হবে।
ব্যক্তিগত শোক ভুলে মানবিক মুখ
অস্থি বিসর্জনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পাশাপাশি গ্রামে অবস্থানকালে নিজের ব্যক্তিগত শোক সরিয়ে রেখে পাশের গ্রামের এক বয়স্ক মুসলিম মহিলার প্রয়াণের খবর পেয়ে তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দেন দীপকে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সমবেদনা জানান।
তবে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করেই তিনি যে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না, তা নিশ্চিত করে দিয়েছেন এই সিজেপি নেতা।