ট্রাম্পের একের পর এক মুসলিমবিরোধী তোপ! বিশ্ব রাজনীতিতে মহা মারপিট, হতভম্ব পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আবারও বিতর্ক ও উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হঠাৎ করেই ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর একপ্রকার একের পর এক তীব্র তোপ দাগতে শুরু করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং আগ্রাসী নীতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া ও সুন্নি প্রধান দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্ববৃহৎ হামলা চালিয়েছে, যার নেপথ্যে ট্রাম্পের কূটনৈতিক নীতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু তাই নয়, মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক মুসলিম সেনাসদস্যকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং তার সরাসরি প্রচারের নির্দেশের মতো চাঞ্চল্যকর খবরের জেরে গোটা বিশ্বে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন পাকিস্তানের শাসক ও ভারতের কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী। এতদিন ধরে ভারতের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখে যারা আনন্দ পাচ্ছিল, তারাই এখন ট্রাম্পকে সমর্থন দেবে নাকি সমালোচনা করবে, তা বুঝে উঠতে পারছে না। সম্প্রতি ইলন মাস্কের মতো ধনকুবের ট্রাম্পের সমর্থনে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে পাকিস্তান উদযাপনে মেতেছিল, কিন্তু তার পরদিনই ট্রাম্প মুসলিমদের নিয়ে এমন এক বিতর্কিত বয়ান দেন যে বিশ্ব রাজনীতি কেঁপে ওঠে। ট্রাম্প খোলামেলাভাবে ইরানের মানুষদের নিয়ে কটু মন্তব্য করেন এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কটাক্ষ করেন।

আসন্ন মার্কিন মিড-টার্ম নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্পের এই আগ্রাসী রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির মুসলিম প্রার্থী আব্দুল আল সৈয়দকে সরাসরি ‘উগ্র জিহাদি’ ও বামপন্থী বলে আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, আব্দুল ইহুদিবিদ্বেষী এবং এমন কেউ মিশিগান থেকে বিজয়ী হোক তা তিনি চান না। একদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি আর অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় উত্তেজনাকে উসকে দিয়ে ভোট পাওয়ার এই রাজনীতি পুরো বিশ্বকে এক বড় সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।