১০ গ্রাম সোনায় ১ গ্রাম উধাও? ধনতেরাসে সোনার গয়না গড়াতে গিয়ে চরম ঠকা ঠকছেন না তো?

ভারতে সোনা শুধু নিছকই এক টুকরো মূল্যবান ধাতু নয়, বরং প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের কাছে এটি এক গভীর আবেগ, নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। শুভ ধনতেরাস, দীপাবলি কিংবা বিয়ের মরশুমে সোনা কেনার ধুম পড়ে দেশজুড়ে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে সোনার আকাশছোঁয়া দামের কারণে কেনাকাটার সময় সামান্যতম ভুল হলেও পকেট থেকে খসে যেতে পারে হাজার হাজার টাকা। বিশেষ করে ১০ গ্রাম সোনা দিয়ে নতুন গয়না বানাতে গেলে কিংবা পুরোনো গয়না বদলে নতুন নকশা গড়াতে গেলে ওজনে হেরফের হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি থেকে যায়। আপনিও কি অলক্ষ্যে ঠকে যাচ্ছেন না তো?

গয়না তৈরির সময় সোনা কমে যাওয়ার আসল কারণ কী? অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ১০ গ্রাম সোনা দিলে কি গয়না তৈরির পর ১ গ্রাম ওজন কমে যাওয়া স্বাভাবিক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গয়না তৈরির সময় খাদ মেশানো, গলানো বা কাটিং ও পলিশিংয়ের প্রক্রিয়ায় সোনার ওজনে সামান্য পরিবর্তন বা কিছুটা ঘাটতি (wastage) হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ১০ গ্রাম সোনায় ১ গ্রামই কমবে— এমন কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই! কতটা ওজন কমবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে গয়নার নকশা ও তৈরির পদ্ধতির ওপর। তাই গয়না গড়াতে দেওয়ার আগে দোকানদারের সঙ্গে অপচয় বা ‘ওয়েস্টেজ চার্জ’ নিয়ে স্পষ্ট কথা বলে নেওয়া জরুরি।

পুরোনো সোনা বদলানোর আগে যে বিষয়ে সাবধান হবেন: ধনতেরাস বা উৎসবে অনেকেই ঘরের পুরোনো সোনার হার, আংটি বা বালা ভাঙিয়ে নতুন ডিজাইনের গয়না গড়ে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সতর্ক না হলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

  • পাথর বা অন্যান্য ধাতুর ওজন: পুরোনো গয়নায় যদি হিরে, চুনি, পান্না বা অন্য কোনও পাথর বসানো থাকে, তবে তার আসল সোনার পরিমাণ বুঝতে সমস্যা তৈরি হয়। পাথরসহ ওজন মেপে সোনা হিসাব করলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

  • বিশুদ্ধতা যাচাই (Purity Test): পুরোনো সোনা বদলে নতুন গয়না নেওয়ার আগে সেটির সঠিক ক্যারেট বা বিশুদ্ধতা ভালো কোনও ডিজিটাল ক্যাডমিয়াম বা এক্সআরএফ (XRF) মেশিনে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

অতএব, উৎসবের মৌসুমে কষ্টার্জিত টাকায় সোনা কেনার আগে বিশুদ্ধতার হলমার্ক (Hallmark) যাচাই করুন এবং মেকিং চার্জ ও ওয়েস্টেজ সম্পর্কে বিশদে জেনে তবেই কেনাকাটা করুন।