হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থাতেই পুলিশের পিস্তল ছিনতাইয়ের চেষ্টা! গুয়াহাটি কাণ্ডে এবার এনকাউন্টার

গুয়াহাটির এক অভিজাত হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার এক অভূতপূর্ব মোড়। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো ঘটনার মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়ার পথেই পুলিশের হাত থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা চালান অভিযুক্ত। এমনকি কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাত ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ শিবসাগরের গৌরীসাগর এলাকায় পৌঁছানোর পর প্রশ্রাব করার নাম করে গাড়ি থেকে নামেন ঘনকান্ত। গাড়ি থেকে নামতেই আচমকা এক পুলিশ অফিসারের রিভলভার কেড়ে নিয়ে পালানোর ধস্তাধস্তি শুরু করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও ঊর্ধ্বতন কর্তাকে বাঁচাতে পিছন থেকে গুলি চালায় পুলিশ। এই সংঘর্ষে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক পাপোরি চেটিয়া।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার ‘বিলাস ইন’ হোটেলে ঢুকে হোটেল মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ, ভাই ও এক আত্মীয় সহ মোট ৫ জনকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেন ঘনকান্ত। লিজ সংক্রান্ত পুরনো সম্পত্তি বিবাদের জেরে এই ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। অভিযুক্তের এমন নাটকীয় মৃত্যুর পর সমগ্র ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।