বাংলায় বিজেপি জিতলেই ভোট চুরির নালিশ কেন? নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ‘দশে দশ’ দিয়ে বিরোধীদের তুলোধনা মন্ত্রীর!

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়লাভ করলেই বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়। অথচ দেশের অন্য কোনো রাজ্যে বিরোধী দলগুলি ক্ষমতায় এলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের মুখে কোনো টু শব্দটি শোনা যায় না। সম্প্রতি বর্ধমানের রবীন্দ্রভবনে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিরোধীদের এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার যে জোরালো দাবি দীর্ঘদিন ধরে তোলা হচ্ছিল, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ঠিক সেই কাজটিই করে দেখিয়েছেন। আর সেই কারণেই বিরোধীদের গায়ে এত জ্বালা ধরেছে।

অতীনকালের স্মৃতি রোমন্থন করে মন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং লোকসভায় দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। তবে আজ যখন জ্ঞানেশ কুমার সেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত করলেন, তখন বিরোধীদের এত আপত্তি কেন? কোন রাজনৈতিক দল মৃত ও ভুয়ো ভোটারের ওপর ভরসা করে নির্বাচনে জিততে চায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মন্ত্রীর দাবি, এতদিন বুথগুলিতে প্রকৃত ভোটারের পরিবর্তে ‘ভূতের ভোটে’ জেতার একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতি চলে আসছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সেই ভূতুড়ে সংস্কৃতি চিরতরে দূর করেছেন এবং প্রকৃত নাগরিকদের তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁরা ১০০ তে ১০০ অর্থাৎ ‘দশে দশ’ দেবেন।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, ঝাড়খণ্ড বা অন্য কোনো রাজ্যে কংগ্রেস কিংবা অন্যান্য বিরোধী দলগুলি যখন জয়লাভ করে, তখন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন বা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা থাকে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিতলেই দেশজুড়ে ভোট চুরির মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়। অতীতে পঞ্চায়েত ও পুরভোটে লুটের রাজত্ব কায়েম করার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে আজ বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলছে।

এদিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করতে না পেরে বিরোধীরা এখন মরিয়া হয়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের কুৎসিত খেলায় নেমেছে। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যিনি নিজের ঘরের গণ্ডি বা কালীঘাটের বাড়ি ছেড়ে বেরোতে পারছেন না, তিনি এখন দিল্লির রামলীলা ময়দানে দৌড়ঝাঁপ করছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক লীলা যে ইতিমধ্যেই সাঙ্গ হয়ে গিয়েছে, তা তিনি এখনও বুঝতে পারছেন না। প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক ঘটনার ভুল অনুপ্রেরণায় ভারতে কোনো ধরনের অসাংবিধানিক আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলেও এদিন কড়া হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী।