হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে জামাত-বিএনপি-র নজর! বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে চরম কৌশল

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম অরাজকতার মুখে। অবৈধভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে, ফলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বিরাট ভোটব্যাঙ্কের দিকে মরিয়া নজর দিয়েছে জামাত-ই-ইসলামী এবং বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল)-এর মতো বিরোধী দলগুলি।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-কে দখলের জন্য জামাত ও বিএনপি উঠেপড়ে লেগেছে। অতীতে এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের বিপরীতে যে দলই দাঁড়িয়েছে, তার প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিবিসি-র খবর অনুযায়ী, সেই গোপালগঞ্জেই এখন নৌকা সমর্থকদের মন পেতে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

জামাতের কৌশলী চাল: আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তার আশ্বাস

জামাত-ই-ইসলামী গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গোপালগঞ্জ-২ (সদর) আসনে জামাতের সম্ভাব্য প্রার্থী আজমল হোসেন সর্দার, পেশায় যিনি একজন আইনজীবী।

জামাত প্রার্থী আজমল হোসেন সর্দার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিচ্ছেন। জানা গিয়েছে, নানা ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো বহু আওয়ামী লীগ সমর্থককে তিনি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, এই সব মামলা থেকে তাদের রেহাই দেওয়া হবে।

বিএনপি’র আবেগ: মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভোট

পিছিয়ে নেই খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-ও। গোপালগঞ্জ-২ সদর আসনের বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী কে এম বাবর। তিনি সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট টানার চেষ্টা করছেন। বাবর দাবি করছেন, তাদের দলই ‘মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হিসেবে ধানের শীষ’।

‘কুমিরের কান্না’ নাকি প্রতিশোধের রাজনীতি?

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে জামাত, বিএনপি সহ সব দলের হাতেই আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটাররা অকথ্য অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তাদের ‘দরদ’ বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। অনেকেই এই সহানুভূতিকে ‘কুমিরের কান্না’ বলে অভিহিত করছেন।

বিএনপি নেতা কে এম বাবর বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “যদি গোপালগঞ্জ দুই আসনের মানুষ আমাদের ভোট দেয়, আমরা কোনও প্রতিশোধ, কোনও মিথ্যা মামলা, হয়রানি করবো না। কারণ আমাদের নেতা তারেক রহমান বলে দিয়েছেন, ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।” তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এর অর্থ কি ভোট না পেলেই আবারও নির্যাতন শুরু হবে?

এদিকে এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) এই প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে। তাদের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পরে আওয়ামী লীগের ছাত্র-যুবরা এনসিপি-র পক্ষেই মন বদল করেছে।

হিন্দু ভোটব্যাঙ্কেও নজর

 

শুধু আওয়ামী লীগের সমর্থকরাই নন, জামাত ও বিএনপি এখন হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককেও কাছে টানতে মরিয়া। কারণ, বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে হিন্দু ভোট আওয়ামী লীগের দিকেই যেত। বিবিসি সূত্র অনুযায়ী, জামাত নিজের নির্বাচনী এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বিশাল সমাবেশ করছে। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাদের রাজনীতি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলকে নিয়েই। তাঁর কথায়, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হলো ‘সকলকে নিয়ে’।

বস্তুত, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনছে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিলে খেলার মোড় ঘুরে যেতে পারে—তা স্পষ্ট।