“হাসপাতালেও ভর্তি নিতে চায়নি!” অভয়ার মায়ের ওপর চলা পুলিশি নির্যাতন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দুর

দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুটি বছর। ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও নির্মম খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। বিচারের দাবিতে আজও উত্তাল হয় বাংলা। এই ঘটনার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে পালিত হয় অভয়ার স্মরণসভা। পানিহাটিতে আয়োজিত এমনই এক স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু অধিকারী।

অভয়ার মায়ের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ

পানিহাটির স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীতে নবান্ন অভিযানের সময়ের এক নৃশংস ঘটনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন কীভাবে সেদিন বিচার চাইতে যাওয়া অভয়ার বাবা-মাকে পুলিশ টার্গেট করেছিল।

স্মরণসভায় শুভেন্দু বলেন, “ডাক্তার বোনের মায়ের মাথায় লাঠি পড়েছিল। অভয়ার মাকে হাসপাতালেও ভর্তি নিতে চায়নি। আমি যা করার করছি, করব, এর শেষ দেখে ছাড়ব।” তিনি আরও জানান, অভয়াকাণ্ডের ভয়ংকর স্মৃতি এবং সেই সময় সাধারণ মানুষের ওপর চলা দমনপীড়নের কথা বাংলার মানুষ কোনোদিন ভুলবে না। অপরাধী ও তাদের সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল?

উল্লেখ্য, এর আগে আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে পড়েছিলেন স্বয়ং অভয়ার বাবা-মা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভয়ার মায়ের মাথায় আঘাত করে। এমনকি তাঁর হাতের শাঁখা পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দীর্ঘক্ষণ হেনস্তা করা হয়। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য নেতারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও বাংলার মানুষের মনে তাজা রয়েছে।