হাতে অমৃতের কলস নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন ইনি! জেনে নিন ধনতেরাসের মহাপ্রসাদ লাভের গোপন চাবিকাঠি

সনাতন ধর্মে দীপাবলি উৎসবের ঠিক প্রাক্কালে উদযাপিত পাঁচ দিনব্যাপী দীপোৎসবের প্রথম ও অত্যন্ত শুভ সূচনা ঘটে ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশীর পবিত্র তিথির মাধ্যমে। প্রতি বছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত এই বিশেষ দিনটি কেবল সোনা, রূপা বা নতুন বাসনপত্র কেনার উৎসব নয়, বরং এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক তাৎপর্য। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই পবিত্র দিনেই সমুদ্রমন্থনের ফলস্বরূপ অমৃতের পাত্র হাতে নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন স্বয়ং ভগবান ধন্বন্তরি। তাঁকে আয়ুর্বেদ, ভেষজ ঔষধ এবং সার্বিক মঙ্গলের দেবতা হিসেবে গণ্য করা হয়। সনাতন ধর্মে তাঁকে দেবাদিদেব বিষ্ণুর অন্যতম অবতার হিসেবেও মান্য করা হয়।
পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রমন্থনকালে যখন দেব ও দানবরা অমৃতের সন্ধানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মন্থন থেকে উঠে আসেন ভগবান ধন্বন্তরি। তাঁর এক হাতে ছিল শঙ্খ, চক্র, জোলোক এবং অন্য হাতে ছিল অমরত্বের প্রতীক অমৃতভরা কলস। যেহেতু তিনি জগতের সমস্ত রোগব্যাধি বিনাশকারী এবং পরমায়ু প্রদানকারী, তাই ধনতেরাসের এই পবিত্র দিনে মা লক্ষ্মী ও ধনতের ভাণ্ডারের রক্ষাকর্তা দেবাদিদেব কুবেরের পাশাপাশি ভগবান ধন্বন্তরীর আরাধনা করা অত্যন্ত আবশ্যিক ও ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনে নিষ্ঠাভরে ভগবান ধন্বন্তরীর পূজা করলে পরিবারে রোগবালাই দূর হয়, দীর্ঘায়ু লাভ ঘটে এবং গৃহকোণে অনাবিল শান্তি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।
ধনতেরাসের এই বিশেষ পূজার অর্চনার সময় ভক্তরা ভক্তিভরে ভগবান ধন্বন্তরীর আরতি করে থাকেন। আরতির বন্দনায় বলা হয়েছে—”ওম জয় ধন্বন্তরী দেব, স্বামী জয় ধন্বন্তরী দেব। হে প্রভু, বার্ধক্য ও রোগের বিনাশকারী, যিনি জগৎভয় দূর করেন।” এই স্তোত্রের মাধ্যমে ভক্তরা প্রার্থনা করেন যেন দেবের কৃপায় তাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতা চিরতরে মুছে যায় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি ও সুখের ধারা অব্যাহত থাকে। চিকিৎসাবিদ্যা ও নিরাময়ের দেবতার এই আরাধনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত অর্থেই স্বাস্থ্যই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই ধনতেরাসের এই শুভলগ্নে পার্থিব ধনসম্পদের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনাই এই উৎসবের মূল বার্তা।