হাসপাতালে শারদ পাওয়ার, হঠাৎ হাজির প্রফুল প্যাটেল! মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে মহা-ধামাকা?

মুম্বাইয়ের অভিজাত ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এসপি)-র সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন এনসিপি-র (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী) জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা সংসদ সদস্য প্রফুল প্যাটেল। শুধুমাত্র শারীরিক খবরাখবর নেওয়াই নয়, হাসপাতালের এসি রুমে বসেই দুই রাজনৈতিক হেভিওয়েট নেতার মধ্যে চলল রুদ্ধদ্বার রাজনৈতিক আলোচনা। দিল্লির মসনদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রফুল প্যাটেল ও অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর ৬ শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক হাই-প্রোফাইল বৈঠক নিয়ে শারদ পাওয়ারের একের পর এক প্রশ্নে কার্যত ব্যাকফুটে চলে যান প্রফুল।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের এই রুদ্ধদ্বার আলোচনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অলিন্দে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভিডিওটিতে শারদ পাওয়ারকে বলতে শোনা যায়, “দিওয়ালির সময় আমাকে পরিবারের সঙ্গেই থাকতে হবে। চিকিৎসকরা কাল সকালেই ছুটি দিচ্ছেন, তাই দিওয়ালির পর আমরা একসঙ্গে বসব।” জবাবে প্রফুল প্যাটেল সম্মতি জানিয়ে বলেন, “১০ই নভেম্বরের পর আমি মুম্বাইয়ে আসব, আপনি সময় বললেই আমি আলোচনার জন্য প্রস্তুত।” এই ভাইরাল কথোপকথনের পরই অজিত ও শারদ পাওয়ারের দুই বিরোধী এনসিপি গোষ্ঠী কি তবে ফের একত্রিত হতে চলেছে? এই প্রশ্নে জল্পনা তুঙ্গে।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে প্রফুল প্যাটেল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, “শারদ পাওয়ার সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো মেজাজে রয়েছেন। রুটিন চেক-আপের জন্যই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল, এক-দুই দিনের মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরবেন।” তবে সূত্রের খবর, প্রকাশ্যে শরীরচর্চা ও রুটিন চেক-আপের কথা বলা হলেও, পর্দার আড়ালে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা জানতে অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলেন শারদ পাওয়ার। সুনেত্রা পাওয়ারের বাদ পড়া থেকে শুরু করে অজিত গোষ্ঠীর ৬ শীর্ষ নেতার দিল্লি যাত্রা নিয়ে এই বৈঠক এনসিপি-র ভবিষ্যৎ সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।