ডাক্তারকে ফোন করে ডেকে ফ্ল্যাটে আটকে মারধর! ৩.৫ লক্ষ টাকার জিনিস লুঠ, গ্রেপ্তার মালয়ালম অভিনেত্রী

কেরলের কোচি শহরে বিনোদন জগতকে স্তম্ভিত করে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এক চিকিৎসককে সুকৌশলে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে মারধর, ব্ল্যাকমেল এবং লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী ছিনতাই করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মালয়ালম অভিনেত্রী অতুল্যা চন্দ্র এবং তাঁর সঙ্গী বিবিন পেরুমপিল্লি। এই আকস্মিক ও হিংসাত্মক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসকমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে কেরলের পোন্নুরুন্নি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। পরিকল্পনা মাফিক অভিনেত্রী অতুল্যা চন্দ্র এক সুপরিচিত চিকিৎসককে ফোন করে জানান যে তাঁর মাসি মারাত্মকভাবে অসুস্থ এবং তাঁর অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। পরিচিত ডাক্তার হওয়ায় এবং রোগীর অবস্থার কথা ভেবে ওই চিকিৎসক বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে উপস্থিত হন।

কিন্তু ফ্ল্যাটের দরজা পেরোতেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল এক ভয়াবহ ফাঁদ। অভিযোগ উঠেছে, ফ্ল্যাটের ভিতরে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল লোক ওই চিকিৎসকের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। বিবিন পেরুমপিল্লি সরাসরি চিকিৎসকের উপর শারীরিক নির্যাতন চালান এবং অতুল্যা চন্দ্র তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, সমাজে তাঁর সম্মানহানি করার জন্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

এই শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার পরেই থেমে থাকেনি আক্রমণকারীরা। তারা চিকিৎসকের দুটি মূল্যবান মোবাইল ফোন, একটি স্মার্টওয়াচ এবং একটি দামি ইয়ারপডস জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। সর্বসাকুল্যে লুট হওয়া এই সমস্ত জিনিসপত্রের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। ঘটনার আকস্মিকতা ও তীব্র মানসিক অভিঘাতে প্রথমে ভেঙে পড়েন ওই চিকিৎসক। ঘটনার দু’দিন পর মানসিকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে তিনি কোচি থানায় গিয়ে সমস্ত ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে কোচি থানার পুলিশ। দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রথমে অভিনেত্রী অতুল্যা চন্দ্র এবং তাঁর সঙ্গী বিবিন পেরুমপিল্লিকে আটক করে এবং পরে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়লেও বাকি সহযোগীরা এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঠিক কী সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ওই চিকিৎসকের উপর এই পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা ব্ল্যাকমেলিংয়ের চক্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিনোদন জগতের একটি জনপ্রিয় মুখের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পমহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। পুলিশ এই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত চার্জশিট পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।