হাইকোর্টে বিরাট ধাক্কা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার নির্দেশেই বহাল রইল বড় কড়াকড়ি

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল শিবির এবং দলের হেভিওয়েট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস বা রাজনৈতিক কার্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম তল অবিলম্বে খালি করতেই হচ্ছে। দমকল বিভাগের দেওয়া ওই দুটি তল খালি করার নোটিশে আপাতত কোনো রকম অন্তর্বর্তীকালীন হস্তক্ষেপ বা স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে বড় কোনো স্বস্তি মেলেনি। ফলে এই নির্দেশ বহাল থাকায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গিয়েছে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা বা ফায়ার সেফটি যথাযথ নয়—এই গুরুতর অভিযোগ তুলে দমকল বিভাগ ভবনটির ওই দুটি তল খালি করার নির্দেশিকা জারি করেছিল। দমকলের এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মূলত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়। শুনানির সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি আদালতে জোরালো দাবি করেন যে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বহুতল ভবনের দুটি তল একসময় লিজ নেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ২৬ আগস্ট সেই লিজ চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিম্ন আদালতেও আইনি লড়াই চলছে।

আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে আরও যুক্তি দেখিয়ে বলেন যে, দমকল বিভাগ হঠাৎ করেই ভবনটি পরিদর্শন করে অভিযোগ তুলেছে সপ্তম ও অষ্টম তলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে, ছাদে বেআইনি নির্মাণ রয়েছে এবং সেখানে বেশ কয়েকটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা আছে। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যদি পুরো ভবনেই সমস্যা থাকে, তবে শুধু দুটি তলার জন্যই কেন এমন কড়া নোটিশ দেওয়া হলো? গ্যাস সিলিন্ডার ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এই ধরনের পরিকাঠামোগত ত্রুটি বা ফায়ার অ্যালার্ম ঠিক করার মূল দায়িত্ব তো বাড়ির মালিকেরই।

অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিৎ কর মিত্র এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে জানান যে, ওই ভবনের সপ্তম তলে বিপুল পরিমাণে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল, যা খোদ বিল্ডিংয়ের মালিকও স্বীকার করেছেন। এছাড়া ওই অংশে ফায়ার অ্যালার্ম একেবারেই কাজ করছিল না এবং পরিকাঠামোয় প্রচুর ত্রুটি ছিল। ভবনের মালিকের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার আদালতে দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর তাঁদের ওই বাড়িতে প্রবেশাধিকার একপ্রকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং কাউকে না জানিয়েই সেখানে একটি ক্যাফেটেরিয়া গড়ে তোলা হয়েছিল। উভয়পক্ষের সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ভবনের মালিকের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন যে, এর জন্য মালিক হিসেবে কোনো নোটিশ পাঠানো হয়েছিল কি না বা ক্যাফেটেরিয়ার জন্য কোনো ভাড়া নেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে মালিকের আইনজীবী জানান যে, বাইরে থেকে ওই ক্যাফেটেরিয়া দেখা যেত না বলেই তাঁরা তা জানতেন না।

সব পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও দমকলের দেওয়া নোটিশে এখনই কোনো ধরনের আইনি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেন। ফলে আপাতত অফিস খালি করার নির্দেশ বহাল রইল। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ওই দিনই এই হাই-প্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত রায় দিতে পারেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।