হাইকোর্টে ধাক্কা খেতেই বড় বিপাকে ইন্দ্রনীল সেন! দুর্নীতির অভিযোগে আজই তলব করল ED

শারদোৎসবের আনন্দ ও আলো ঝলমলে উদযাপনের মাঝেই রাজ্যের রাজনীতিতে এক প্রবল ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গোৎসবকে (Durga Puja 2026) সম্পূর্ণ সামনে রেখেই আর্থিক দুর্নীতির এক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর মামলার তদন্তে এবার রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ফের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ঠিক পুজো শুরুর আগের মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার আদালতের তরফে তাঁর পেশ করা আগাম জামিনের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এই আইনি ধাক্কার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, এবং আজই তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘ইউনেস্কো’-র নাম ও ভুয়া পরিচয়ের অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার বিশাল আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামক একটি সংস্থার বিরুদ্ধে। এই বিশেষ আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে ইডি আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন যে, অভিযুক্ত এই সংস্থার মাথায় বা মূল দায়িত্বে রয়েছেন খোদ প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরেই বর্তমানে গোয়েন্দাদের প্রধান আতসকাচের নীচে চলে এসেছেন খোদ প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং এই দুর্নীতির নেপথ্যে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এই তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ইউনেস্কোর হেরিটেজ ট্যাগ পাওয়ার বিষয়টিকে হাতিয়ার করে একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কেলেঙ্কারি চালানো হয়েছিল। এই দুর্নীতির জাল ঠিক কতদূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কোন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা আমলারা যুক্ত রয়েছেন, তা উদ্ঘাটন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পুজোর উৎসবে যখন গোটা রাজ্য মেতে রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ইডির এই কড়া পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। আইনি সুরক্ষাকবচ হারিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী এখন ইডির মুখোমুখি হতে কীভাবে নিজেকে ডিফেন্ড করেন এবং তদন্তে কী নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।