হাইকোর্টের নির্দেশ উড়িয়ে রেল অবরোধ! ঝাড়গ্রামে কুড়মি আন্দোলনের প্রভাব, বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা

আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রস্তাবিত ‘রেল টেকা’ এবং ‘ডহর ছোঁকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহলের চার জেলায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশের পর এই আন্দোলন কতটা সফল হবে তা নিয়ে সন্দেহ ছিল, তবুও খেমাশুলিতে রেললাইনে শুয়ে পড়ে কুড়মি আন্দোলনকারীরা রেল চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে।

সড়ক ও রেল পরিষেবা ব্যাহত
আন্দোলনকারীরা শুধু রেললাইন নয়, ৫ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরোধ করে। এর ফলে হাওড়া-খড়গপুর রেলপথে বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও সড়কপথেও বাস, ট্রাক, লরি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন তাঁদেরকে হেনস্তা করছে এবং অন্যায়ভাবে আটক করছে। এ বিষয়ে কুড়মি সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় মাহাতো বলেন, “ঝাড়খণ্ডে আমাদের আন্দোলন পুরোপুরি সফল, তবে পশ্চিমবঙ্গে আংশিক সফল। আমরা হাইকোর্ট মেনেই এই আন্দোলন করছি। প্রত্যেকেরই আন্দোলন করার স্বাধীনতা রয়েছে, আর আমরা আমাদের জাতিসত্ত্বা নিয়ে লড়ছি।”

জেলা প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল জানান, ঝাড়গ্রামে এখনো পর্যন্ত বাস ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জঙ্গলমহলের চার জেলায় স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রামের সীমান্ত এলাকায় নাকা পয়েন্ট বসানো হয়েছে এবং যারা বাঁকুড়া থেকে ঝাড়গ্রামে আসছেন, তাদের চেকিং করা হচ্ছে, যাতে হাইকোর্টের নির্দেশ কেউ লঙ্ঘন করতে না পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, আন্দোলনের কারণে রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের আনাগোনা কম, যার ফলে ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে।