“হরমুজ প্রণালীতে অশান্তির ঘনঘটা! তেলের বাজারে বড় ঝড়ের আশঙ্কায় কী বার্তা দিলেন হরদীপ সিং পুরী?”

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ফেরেদুন ফেশারাকির সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজির বাজার কোন দিকে মোড় নিচ্ছে এবং এর ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। আমেরিকা থেকে তেলের জোগান বৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে চাহিদার মন্দা এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন তাঁরা।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানান যে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা ও জোগানের সমীকরণে নাটকীয় পরিবর্তন আসছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে এখন রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন সাপ্লাই সেন্টার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্বের বড় একটি অংশে তেলের চাহিদা সেভাবে বাড়ছে না, যা এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

তবে এই বিশ্বচিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক ও জ্বালানির ছবি। মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মতে, তেলের চাহিদার দিক থেকে ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং অন্যতম বৃহত্তম বাজার। দেশের এই ক্রমবর্ধমান শক্তির মাঝেও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে চলা অশান্তির প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, এই সংঘাতের জেরে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

একদিকে নতুন নতুন সাপ্লাই সেন্টার থেকে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান আন্তর্জাতিক রুটগুলি বারবার বাধা পাচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী শক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাবেই আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজার এখন ক্রমাগত ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ এর সরাসরি এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিপুল আমদানি খরচের ওপর।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। ওই অঞ্চলে সামান্য অশান্তি দেখা দিলেও তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং তার অভ্যন্তরীণ দামে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বর্তমান এই বিশ্বজোড়া অস্থিরতার জেরে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর এখন আরও কড়া নজর রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই হরদীপ সিং পুরী ও ফেশারাকির এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওপেক-ইন্ডিয়া এনার্জি ডায়ালগের সপ্তম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। ভারত এবং ওপেকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন হরদীপ সিং পুরী এবং ওপেকের সেক্রেটারি জেনারেল হাইথাম আল ঘাইস। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, সেই বৈঠকে বাজারের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ভবিষ্যত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তৈরি হয়েছিল।