স্লিম হওয়ার তাড়নায় শরীরকে দিচ্ছেন চরম শাস্তি? চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা জেনে তবেই নিন এই পদক্ষেপ!

হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটি দিনের অপেক্ষা। তারপরেই ঢাকে কাঠি পড়ে শহরজুড়ে শুরু হয়ে যাবে শারদোৎসবের আনন্দ। নতুন জামা, সাজগোজ আর জমজমাট আড্ডার এই দিনগুলিতে নিজেকে একটু বেশি আকর্ষণীয় ও ছিপছিপে দেখাতে কার না ইচ্ছে করে? আর সেই তাগিদেই পুজোর ঠিক আগে হুড়মুড়িয়ে ডায়েট কমানো কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে ঘাম ঝরানোর হিড়িক শুরু হয়ে যায়। কিন্তু রাতারাতি স্লিম হওয়ার এই ইঁদুরদৌড় শরীরের ভেতরে ঠিক কী ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে, তা কি আমরা আদৌ ভেবে দেখছি?

পুজোর আগে মেদ ঝরাতে অনেকেই বেছে নেন ‘ক্র্যাশ ডায়েট’। ভাত-রুটি পুরোপুরি বাদ দিয়ে শুধু ফল বা তরল পানীয়ে দিন কাটানো কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় মারাত্মক কম ক্যালোরি খাওয়ার প্রবণতা বেশ চেনা। পুষ্টিবিদ পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের অপরিকল্পিত ডায়েট শরীরে মারাত্মক পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। এর ফলে চরম দুর্বলতা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং পেশি ক্ষয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে গিয়ে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এই ধরনের ডায়েট।

খাবার কমানোর পাশাপাশি হঠাৎ করে জিমে অতিরিক্ত মাত্রায় ভারী ওজন তোলা কিংবা অতিরিক্ত সময় ধরে শরীরচর্চা করার প্রবণতাও সমানভাবে বিপজ্জনক। ফিটনেস বিশেষজ্ঞ সৈকত দাসের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্য রাখা ভালো হলেও, শরীরের ক্ষমতা না বুঝে হঠাৎ অতিসক্রিয় হওয়া বিপদের কারণ হতে পারে। ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল রুটিন ছাড়াই অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে পেশিতে চোট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মনোবিদদের মতে, এই অন্ধ প্রতিযোগিতার পেছনে কাজ করে সমাজমাধ্যমের নিখুঁত চেহারার চাপ এবং অন্যের সঙ্গে নিজের চেহারার তুলনা করার মানসিকতা। তবে পুজো মানেই নির্দিষ্ট কোনও সাইজ বা ওজনে নিজেকে বাঁধতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। শরীরের ক্ষতি করে তথাকথিত ‘পারফেক্ট লুক’ পাওয়ার চেয়ে সুস্থ থাকাটা অনেক বেশি জরুরি। তাই শরীরকে অযথা শাস্তি না দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসির মাধ্যমেই উপভোগ করুন এই বছরের দুর্গোৎসব।

Aditi Banik
  • Aditi Banik