‘সুর নরম’ করে বৈঠকে ভারত ও আমেরিকা! জয়ের পথে মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি?

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এই আবহে আজ, নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক এবং এইচ১বি ভিসা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পর এটাই দুই শীর্ষ নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাস ধরে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে তিক্ততা বেড়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল এবং ট্রাম্প স্বয়ং ভারতের বিরুদ্ধে নানা উসকানিমূলক মন্তব্য করছিলেন। এক রিপোর্টে এমনও দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাকি ৪ বার ট্রাম্পের ফোন তোলেননি। তবে সম্প্রতি দুই দেশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যা সম্পর্ক মেরামতের ইঙ্গিত। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এরপরই মোদী আশা প্রকাশ করেন যে, বাণিজ্য আলোচনা যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত হবে, ততই ভালো।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এইচ১বি ভিসা সংক্রান্ত ঘোষণার পর প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই ইস্যুটি জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠকে আলোচনায় আসবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে আজকের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, উন্নত ভারত গড়ার জন্য দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের ভূমিকা এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। মোদী বলেন, “যে জিনিসগুলি দেশে তৈরি করা যায়, সেগুলি ভারতেই তৈরি করতে হবে। শুধু ভারতেই তৈরি করলে হবে না, সেটিকে বিশ্বের সেরা হতে হবে। যে পণ্য তৈরি করা হবে, তার গুণগত মান এমন হবে যে তা পুরো বিশ্বে ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করবে।” মোদী আরও বলেন, “গর্বের সঙ্গে বলুন, এটা স্বদেশি জিনিস। গর্বের সঙ্গে বলুন, আমি স্বদেশি জিনিস কিনি। তাহলেই উন্নত হয়ে উঠবে ভারত।”
মোদী সরকারের এই নীতি একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চাইছে, তেমনই অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থানকে মজবুত করতে চাইছে। আজকের এই বৈঠক সেই কূটনৈতিক কৌশলেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।