সিরিয়া নিয়ে মুখোমুখি দুই দেশ! ইজরায়েলি হামলায় তুঙ্গে ওঠার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত?

সিরিয়ার মাটিতে সামরিক উপস্থিতি ও বিমানঘাঁটি দখলকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে ইজরায়েল ও তুরস্কের। সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে একযোগে আটটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এই আকস্মিক পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে বড় ধরণের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি তাঁদের দেশের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। ইজরায়েলের দাবি, সিরিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়ে যে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কথা ছিল, তুর্কি সেনার উপস্থিতির ফলে সেই চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে ইজরায়েলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আঙ্কারা ও দামেস্ক। তাঁদের দাবি, ওই ঘাঁটিতে স্থায়ী কোনো তুর্কি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল না, বরং সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার জন্যই সেখানে কিছু কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই হামলার আগে ইজরায়েলের পক্ষ থেকে তুরস্ককে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধিদের মতে, ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে ধেয়ে আসতে দেখে তুর্কি বাহিনীও পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল। এর ফলে ২০১৫ সালে তুরস্কের হাতে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার মতো কোনো অনভিপ্রেত ও আকস্মিক সংঘর্ষের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ২০২৪ সালের শেষভাগে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকেই সিরিয়ার ভূখণ্ডে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত ইজরায়েল ও তুরস্কের সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।