এল নিনোর তাণ্ডবে শুকোচ্ছে আঙুর-আম বাগান! বিশেষ ট্যাঙ্কার ও ট্রেনে জল দেওয়ার আর্জি কৃষকদের

এল নিনোর প্রভাবে চরম আবহাওয়া এবং বৃষ্টির ভয়াবহ ঘাটতির জেরে তীব্র খরার কবলে পড়েছে মহারাষ্ট্র। শুকিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম কুয়ো, নামছে ভূগর্ভস্থ জলস্তর এবং দ্রুত খালি হচ্ছে জলাধারগুলি। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা আম, আঙুর, কলা ও বেদানার বাগান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন চাষিরা। নাসিক, মারাঠওয়াড়া ও বিদর্ভের কৃষকরা গাছ বাঁচাতে এবার বিশেষ ট্যাঙ্কার ও ট্রেনে করে জরুরি জল সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিকেই খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ এলাকা এখন চরম জলের সংকটে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮.৮ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এবারের খরা ১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক ও ভয়াবহ খরাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান আঙুর উৎপাদন কেন্দ্র নাসিকে সংকট চরম আকার নিয়েছে। অক্টোবর মাসে গাছে জল না পেলে শুধু চলতি মরশুম নয়, আগামী কয়েক বছরের ফলন মারাত্মকভাবে মার খাবে।
মহারাষ্ট্র ‘গ্রেপ গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ সভাপতি কৈলাস ভোঁসলে জানান, গত দু’মাস ধরে বৃষ্টি না থাকায় এবং জলাধারের জল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় চাষিরা চরম বিপদে। ফলগাছ শুকিয়ে গেলে নতুন বাগান তৈরি করে বাণিজ্যিক ফলন পেতে কমপক্ষে চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। অমরাবতীতে ইতিমধ্য়েই কমলালেবুর গাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। নাসিকের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান অনিল মেহের জানিয়েছেন, বর্তমান সংকট না মিটলে মোট ফলের মাত্র ৩০ শতাংশ বাঁচানো সম্ভব হবে। সরকার কৃষিঋণ স্থগিত ও রাজস্ব ছাড়ের ঘোষণা করলেও কৃষকদের মূল দাবি—যেকোনো মূল্যে আগে জল পৌঁছানো হোক।