সিঙ্গাপুরের লোভনীয় চাকরির টোপ! মায়ানমারে সাইবার চক্রের নরককুণ্ডে বন্দি অন্ধ্র-তেলেঙ্গানার ১০০ যুবক

সিঙ্গাপুরে আইটি ক্ষেত্রে লোভনীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার প্রায় ১০০ জন বেকার যুবককে মায়ানমারে আটকে রেখে ভয়াবহ সাইবার প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ভুক্তভোগী যুবকদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত মাসিক ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বেতনের একটি আইটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে তাঁরা এই প্রতারণার ফাঁদে পা দেন। সরল বিশ্বাসে ওই যুবকরা গত ২ এপ্রিল বিজয়ওয়াড়া থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত নিয়োগকারী এজেন্টরা তাঁদের নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথমে কম্বোডিয়ায় এবং পরবর্তীতে মায়ানমারে পাচার করে। அங்கு পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছিন্ন সব দুর্গম কম্পাউন্ডে তাঁদের জোরপূর্বক বন্দি করে রাখা হয় এবং কেড়ে নেওয়া হয় সমস্ত পাসপোর্ট ও জরুরি নথিপত্র।
মায়ানমারে আটকে রাখার পর থেকেই ওই যুবকদের ওপর শুরু হয় অকথ্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো, অন্ধকার ঘরে একাকী আটকে রাখা হতো এবং দিনের পর দিন অনাহারে রাখা হতো। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক সাইবার জালিয়াতির চক্রে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা হতো তাঁদের। যারা এই বেআইনি কাজ করতে অস্বীকার করত কিংবা নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে ব্যর্থ হতো, তাদের ওপর নেমে আসত পৈশাচিক নির্যাতন। এমনকি সেখানে বন্দি থাকা কয়েকজন মহিলা ভয়াবহ যৌন নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই নরকীয় পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কয়েকজন যুবক পালানোর সাহসিকতা দেখালেও, পূর্ণা ভেঙ্কটকৃষ্ণা সহ ১৮ জনকে ফের ধরে ফেলে ওই চক্রের সদস্যরা এবং তাঁদের ওপর আরও নির্মম অত্যাচার চালানো হয়।
প্রতারক চক্রটি এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিটি যুবকের পরিবারের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা করে বিশাল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এই বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরেই তাঁদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে গত ১৭ জুলাই বিদেশ মন্ত্রকের কাছে অনলাইনে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি, গত ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশ নন-রেসিডেন্ট তেলুগু সোসাইটি (APNRT)-এর কাছেও একটি পৃথক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। গত শনিবার সকালে বন্দি যুবকদের মধ্যে থাকা পূর্ণ ভেঙ্কটকৃষ্ণ ও শ্রীরাম সাইবাবার বন্ধু সাইরামের আয়োজিত একটি কনফারেন্স কলের মাধ্যমে এপিএনআরটি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। সেই কথোপকথনের সময় তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজেদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে তাঁদের সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের কাতর আর্জি জানান। এপিএনআরটি-র কর্মকর্তারা তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক স্তরে সবরকম প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ওই দিন রাতেই সাইবাবার পরিবার এবং পূর্ণ ভেঙ্কটকৃষ্ণের ভাই তাদেপল্লী থানায় গিয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিশদ বিবরণ দেন। বর্তমানে তেলুগু যুবকদের উদ্ধারের এই লড়াইয়ে বিদেশ মন্ত্রক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ করা হচ্ছে।