সিংহাসন টলেছে! নেপাল থেকে বাংলাদেশ, আন্দোলন থামাতে পারেননি যে ১০ বিশ্বনেতা

নেপালে দুর্নীতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সম্প্রতি বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, কীভাবে জনগণের ক্ষোভ বিশ্বজুড়ে বহু নেতাকে তাঁদের পদ থেকে সরাতে বাধ্য করেছে। দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থা, বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনগুলো রাষ্ট্রপ্রধানদের সিংহাসন পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়। এখানে এমনই কিছু ঐতিহাসিক গণবিক্ষোভের কথা তুলে ধরা হলো, যা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরিবর্তন এনেছে।

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন (২০২৪)
২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই গণবিক্ষোভে পরিণত হয়। দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে হামলা চালালে তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট বিরোধী আন্দোলন (২০২২)
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক অব্যবস্থা এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েক মাস ধরে চলা এই অস্থিরতার পর আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা করে। এর ফলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভ (২০২১)
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সুদানে বেসামরিক শাসন ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই বিক্ষোভে সেনাবাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালালে ৫৩ জন নিহত হন। এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদোক রাজনৈতিক সংকটের কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

আলজেরিয়ার ‘হিরাক’ আন্দোলন (২০১৯)
২০১৯ সালে আলজেরিয়ার ‘হিরাক’ আন্দোলন প্রেসিডেন্ট আবদেলআজিজ বুতেফ্লিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় থাকার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হয়। কয়েক মাস শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর বুতেফ্লিকা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কিরগিজস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা (২০২০)
২০২০ সালের সংসদীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কিরগিজস্তানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি ভবনগুলোতে হামলা চালায় এবং দখল করে নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সুরনবে জিনবেভ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

লেবানন বিক্ষোভ (২০১৯)
২০১৯ সালে লেবাননে ব্যাপক সরকারি দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সাম্প্রদায়িক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ১৩ দিন ধরে লাগাতার বিক্ষোভ চলে। এই আন্দোলনের ফলে প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির সরকার সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

বলিভিয়া বিক্ষোভ (২০১৯)
২০১৯ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বলিভিয়ায় তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। জনগণের চাপ এবং সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে প্রায় ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ (২০২৫)
এই বছরের জুলাই মাসে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে কথোপকথন ফাঁস এবং সামরিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগের জের ধরে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। জুলাই মাসে আদালত তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পর আগস্টে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সার্বিয়ায় দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন (২০২৫)
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সার্বিয়ার একটি স্টেশন ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে তিনি ২৮ জানুয়ারি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।