ভোরবেলা বাবার সঙ্গে হাতাহাতি, ঘরে ঢুকেই চরম সিদ্ধান্ত ১৮ বছরের যুবকের!

সাতসকালে বাবা ও ছেলের সামান্য বচসা এবং তার জেরে এক আচমকা থাপ্পড়—আর তাতেই ঘনীভূত হল রহস্য। বাবার হাত থেকে চড় খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘর থেকে ১৮ বছর বয়সি এক যুবকের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আত্মীয়দের একাংশের দাবি, অভিমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই তরুণ।

সোমবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাট থানার হবিবপুর মাঠপাড়া এলাকায়। মৃত যুবকের নাম রবি পাল (১৮)। আকস্মিক এই ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছে পরিবার।

ঠিক কী ঘটেছিল সকালে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রবি পালের বাবা চন্দন পালের সঙ্গে সোমবার ভোরে কোনো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয় যুবকের। স্থানীয় এক বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী শান্তকুমার বিশ্বাস জানান, সকাল তখন প্রায় ৫টা বাজে। তিনি যখন ফুল তুলতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় বাবা ও ছেলের মধ্যে ঝামেলা হতে দেখেন।

শান্তকুমারের বয়ান অনুযায়ী, “ছেলেটি তখন কলের ধারে ছিল আর বাবা কিছুটা দূরে ছিলেন। হঠাৎ বাবা দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে একটা সজোরে থাপ্পড় মারেন। এরপর ছেলেটি রাগে বা অভিমানে সঙ্গে সঙ্গে ঘর চলে যায়। আমি ফুল তুলতে চলে যাই। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখি এলাকায় প্রচণ্ড হইচই শুরু হয়েছে। সবার মুখে শুনলাম রবি মারা গিয়েছে। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে।”

কী বলছে পরিবার?

মৃত যুবকের মামা কৃষ্ণ পাল জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং রবির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর কথায়, “শুনলাম বাবা চড় মারার অভিমান বা রাগে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে ও। ঠিক কী কারণে যে ছেলেটা এমন চরম পথ বেছে নিল, তা বুঝতে পারছি না। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। ঘটনার জেরে পুলিশ ওর বাবাকেও থানায় নিয়ে গিয়েছে।”

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানাঘাট থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।