সান্দাকফুতে পর পর পর্যটকের মৃত্যু! ট্রেকিংয়ের আগে বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের, কড়া নিয়ম না মানলে পাবেন না অনুমতি

কাঞ্চনজঙ্ঘার অপার সৌন্দর্য আর অ্যাডভেঞ্চারের টানে সান্দাকফু পাড়ি দেওয়া পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। সান্দাকফুর দুর্গম উচ্চতায় আশঙ্কাজনক অসুস্থতা এবং পর পর দুই পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো রাজ্য পর্যটন দফতর, জিটিএ (GTA) এবং দার্জিলিং জেলা প্রশাসন।
উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যা ও জরুরি চিকিৎসার অভাব নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে ছড়ানো ভীতি দূর করতে পাহাড়ে ওঠার প্রবেশদ্বার মানেভঞ্জনেই তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
💔 এক মাসের ব্যবধানে জোড়া মৃত্যুর ধাক্কা
সম্প্রতি সান্দাকফু ভ্রমণের পথে পর পর দু’জন পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে:
প্রথম ঘটনা (৩০ সেপ্টেম্বর): উচ্চতাজনিত তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতার কারণে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি তরুণ প্রিয়তোষ অধিকারীর মৃত্যু হয়।
দ্বিতীয় ঘটনা (২০ অক্টোবর): সেই শোকের আবহ কাটার আগেই সান্দাকফু সংলগ্ন টুমলিঙে পরিবারের চোখের সামনেই হৃদরোগ ও তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি বুবাই পাল।
পর পর জোড়া মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় উত্তরবঙ্গের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনে এক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক পর্যটকই প্রবীণ ও শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আগাম সান্দাকফু সফর বাতিল বা পিছিয়ে দিচ্ছিলেন।
🩺 মানেভঞ্জনে কড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মিলবে তবেই অনুমতি
পাহাড়ে পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন শিল্পকে ঘুরে দাঁড় করাতে অবিলম্বে বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
পর্যটনমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ: “সান্দাকফু বা মেঘমায় যে সমস্ত পর্যটকেরা বেড়াতে যাবেন, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে মানেভঞ্জনে অস্থায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে (CMOH) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, বাইরে থেকে সংগৃহীত কেবল কোনো চিকিৎসকের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখালেই আর চলবে না। মানেভঞ্জনের শিবিরে উপস্থিত সরকারি চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যটকের শারীরিক অবস্থা বুঝে সবুজ সংকেত দিলে, তবেই সান্দাকফু ভ্রমণের চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়া যাবে।