সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল করবেন না! হু হু করে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু-র সংক্রমণ, কোন লক্ষণ দেখলেই সাবধান?

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি আর জ্বরের সমস্যা লেগেই থাকে। অনেকেই একে সাধারণ মরশুমি জ্বর ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু এই ভুল পদক্ষেপই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তীব্র উদ্বেগ বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে সোয়াইন ফ্লু বা ‘এইচ১এন১’ (H1N1) ভাইরাসের ভয়ঙ্কর দাপট। সাধারণ ভাইরাল ফিভারের আড়ালে কীভাবে চিনবেন এই মারাত্মক সংক্রমণকে এবং প্রাত্যহিক জীবনে কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখবে, তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে ওয়াকিবহাল মহল।
সোয়াইন ফ্লুয়ের সাম্প্রতিক ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক করে বিশিষ্ট চিকিৎসক ড: হরেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, এই ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় গোটা পরিবারকেই একসঙ্গে আক্রান্ত করে। তাঁর স্পষ্ট সতর্কবাণী, “এই সময় চলা জ্বরকে একদম হালকাভাবে নেবেন না। মাত্র এক-দু’দিনের জ্বরেই রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।” চিকিৎসকদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সংক্রমণে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বিপদের লক্ষণ ফুটে উঠছে। এর মধ্যে রয়েছে—হঠাৎ করে প্রচণ্ড বেশি জ্বর আসা এবং সারা শরীরে তীব্র যন্ত্রণা, একটানা শুকনো কাশি, গলা খুসখুস ও দ্রুত শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া, পেটে মারাত্মক অস্বস্তি, তীব্র পেটে ব্যথা এবং ডায়েরিয়া বা লুজ মোশনের মতো সমস্যা। এমনকি ফুসফুসে সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত বাড়লে সিটি স্ক্যানে প্যাঁচি গ্রাউন্ড গ্লাসিংয়ের (Patchy Ground Glassing)-এর মতো জটিল লক্ষণও ধরা পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, শুধু প্যারাসিটামলের ওপর ভরসা করে ঘরে বসে থাকা একপ্রকার আত্মহত্যার শামিল। আইসিএমআর (ICMR) এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট নির্দেশ, জ্বর হলে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। ড: হরেন্দ্র কুমারের পরামর্শ, “শুধু প্যারাসিটামল খেয়ে সময় নষ্ট করবেন না, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করান। কারণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে যত দ্রুত ‘ওসেলটামিভির’ (Oseltamivir)-এর মতো কার্যকরী ওষুধ শুরু করা যায়, রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়ে।” পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়ার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর পক্ষ থেকে কিছু বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে বা কিছু খাওয়ার আগে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান-জল দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। মেট্রো, বাস, লোকাল ট্রেন বা যেকোনো জনবহুল ও ভিড় জায়গায় যাওয়ার সময় অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ও নাক ঢাকতে সবসময় টিস্যু বা পরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। না ধোয়া হাতে বারবার চোখ, নাক কিংবা মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই নিজেকে সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল, স্যুপ ও পুষ্টিকর তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। ছোটখাটো উপসর্গকেও অবহেला না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।