সরকারি কোষাগার ফাঁকা করে কোটি কোটি টাকা কার পকেটে? বীরভূমের মেগা স্ক্যামের রুদ্ধশ্বাস সত্যি সামনে!

বীরভূম জেলায় শুল্ক আদায়ে জালিয়াতি ও বেআইনি ডি সি আর (DCR) কারবার মামলায় পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল বীরভূম জেলা পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT)-র পেশ করা এই চার্জশিটে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ডি সি আর ইস্যু করা হয়েছিল। যার মোট সংখ্যা ৭৪,৮৯৯। তদন্তে দেখা যায়, এর মধ্যে প্রায় ৬২,৮৮৮টি ডি সি আর-ই সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল, যা মোট ইস্যুকৃত নথির প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ। অন্যদিকে, একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহম্মদবাজারের তৎকালীন ডেপুটি ডি এল অ্যান্ড এল আর ও (DL&LRO) রবিউল ইসলামকে রবিবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, টুলু মণ্ডলের মালিকানাধীন বিশাল এলাকা জুড়েই চলত এই প্রতারণার কারবার। পার্কিং লট থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে জাল ডি সি আর তৈরির একাধিক প্রিন্টিং মেশিন। তল্লাশি চালিয়ে যে ৪৮৮টি ডি সি আর বাজেয়াপ্ত করা হয়, সেগুলির সবই জাল প্রমাণিত হয়েছে এবং বাকি থাকা ১০টি নথির ফরেন্সিক রিপোর্ট আসা এখনও বাকি। নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক আদায়ে সরকারি কর্মীদের ডিউটি থাকার কথা থাকলেও টুলু মোটা টাকার বিনিময়ে সরকারি কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে নিজের লোক মোতায়েন করত। এমনকি সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দেওয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণই ছিল টুলুর হাতে।
এই সুবিশাল জালিয়াতির জেরে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্য সরকার প্রায় ৮৫৫ কোটি টাকার মেগা রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে। পুলিশের প্রাপ্ত ক্যাশ রেজিস্টার ও অর্থনৈতিক নথি অনুযায়ী মাত্র ০.৪ শতাংশ টাকা সরকারি তহবিলে জমা পড়ত, বাকি বিপুল অর্থ সরাসরি চলে যেত টুলুর পকেটে। এর আগে পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা ও বিপুল নগদ টাকা উদ্ধারের পরেই আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হতে শুরু করে। প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক রবিউল ইসলামের এই জালিয়াতিতে সরাসরি যোগসাজশ স্পষ্ট হতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।