‘ক্রাইম হয়, অপরাধ নয়!’ সম্রাট চৌধুরীর আজব তত্ত্বে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তেজস্বী যাদব

বিহারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম বিতর্ক ও রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। খোদ বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর এই মন্তব্য হাতিয়ার করে নীতীশ কুমার ও বিজেপি সরকারকে একহাত নিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি বিরোধীরা। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব এই বক্তব্যকে সামনে এনে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন।

সম্প্রতি মঙ্গলবার জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজে নদীর পলি ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন সম্রাট চৌধুরী। সেই মঞ্চ থেকেই এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত তাত্ত্বিক মন্তব্য করে বসেন তিনি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিহারে নাকি প্রচলিত অর্থে কোনো ‘অপরাধ’ বা ‘অপরাধী’ নেই। ক্যামেরাবন্দি সেই বক্তব্যে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এখানে কোনো অপরাধ নেই। অপরাধের ধারণাটাই কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। এখানে ক্রাইম হতে পারে, কিন্তু ‘অপরাধ’ নেই। কোনো অপরাধীও নেই।” এরপর তিনি আরও যোগ করেন যে, বিহারের দ্বিতীয় বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ হলো জলসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং রাজ্য যদি সঠিকভাবে জলসম্পদ পরিচালনা করতে পারে, তবে তা ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য।

সম্রাট চৌধুরীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা দাবানলের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বক্তব্যের এই অংশটি লুফে নিয়ে বিজেপি এবং রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তেজস্বী যাদব। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সম্রাট চৌধুরীর ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে সরাসরি কটাক্ষ করেন। তেজস্বী প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের মন্তব্যের পর মঞ্চে উপস্থিত থাকা বর্ষীয়ান আইএএস (IAS) এবং আইপিএস (IPS) আধিকারিকরা কি বর্তমান সরকারের অধীনে কাজ করতে পেরে নিজেদের সম্মানিত মনে করছেন, নাকি চরম অপমানিত বোধ করছেন?

উল্লেখ্য, যে অনুষ্ঠানে এই বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন খোদ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ীও। বিহার সরকার এবং কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে এই সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI) এবং বিহার সরকার যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নদী ও জলাধার থেকে পলি তুলে তা জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হবে। এনএইচএআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বিহারের চলমান এবং প্রস্তাবিত বিভিন্ন জাতীয় সড়ক প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৪৩ লক্ষ ঘনমিটার পলির বিশাল প্রয়োজন রয়েছে। এই পজিটিভ কাজের মাঝে উপমুখ্যমন্ত্রীর এই বেফাঁস মন্তব্য সমস্ত উন্নয়নমূলক আলোচনাকে ছাপিয়ে এখন রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।