“সরকারকে জবাবদিহি করালেই আরশোলারা অদৃশ্য হবে!” বিস্ফোরক হুঙ্কার দিল ককরোচ জনতা পার্টি

“ভারতীয়রা যে পরিস্থিতিতে বসবাস করছে, তার উন্নতি না হলে আরশোলা মরবে না।” শুক্রবার নতুন করে এমনই বিতর্কিত ও তীব্র হুঙ্কার ছাড়ল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)। সেই সঙ্গে তাদের সংযোজন, “গণমাধ্যম কেন সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে না? তা করলেই আরশোলাগুলি চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যাবে।”

দিল্লির কনট প্লেস সংলগ্ন সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল এই রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনটি। কিন্তু তার আগেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখায় দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরোতেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া মান্ডি হাউসের কাছ থেকে ছাত্র সংগঠন AISA-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরাও পুলিশের হাতে আটক হন। আটকের আগে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নেহা বোরা বলেন, “এই লড়াই ভারতে গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই। আমাদের টেনে হিঁচড়ে তিহাড়ে পাঠিয়ে দিন, আমাদের একজনের জায়গা নিতে দিল্লির রাস্তায় একশো জন নেমে পড়বে। কাউকে জেলে পাঠিয়ে এই আন্দোলন থামানো যাবে না।”

দুর্গ দুর্গ হয়েছিল কনট পার্ক: শুক্রবার সকাল থেকেই কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এলাকাকে কার্যত দুর্গে পরিণত করে রেখেছিল দিল্লি পুলিশ। আগামী দু’দিন অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবারের জন্য পার্কটি বন্ধও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই রানি ঝাঁসি রোড থেকে অভিজিৎ দীপকে কনট প্লেসে বিক্ষোভ বা মিছিল না করার নোটিস ধরানো হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে বিকেলে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা দিতেই তাঁর পথ আটকায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে যন্তরমন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন ককরোচ পার্টির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বর্তমানে তাঁরা দু’জনেই দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন। সতীর্থদের সেই গ্রেফতারির প্রতিবাদেই এদিনের এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল, যা ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত থাকে জাতীয় রাজধানী।